নরেন্দ্রপুরে বিজেপি নেতাকে ঘিরে ধরে পৈশাচিক মার! প্রকাশ্যে এল শিউরে ওঠা সিসিটিভি ফুটেজ, তোলপাড় রাজ্য!

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর থানা এলাকায় ভরসন্ধ্যায় এক বিজেপি নেতাকে নৃশংস ও পৈশাচিক কায়দায় মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের রূপ নিল রাজ্য রাজনীতি। আক্রান্ত নেতার নাম ও রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার একটি হাড়হিম করা সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ ইতিমধ্যেই প্রকাশ্য এসেছে, যা দেখে শিউরে উঠছেন সাধারণ মানুষ। বর্তমানে ওই বিজেপি নেতা আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। এই নারকীয় হামলার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে।

জনবহুল রাস্তায় ঘিরে ধরে রড-লাঠি দিয়ে মার!

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত বিজেপি নেতা যখন নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার একটি জনবহুল রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা একদল দুষ্কৃতী হঠাতই তাঁর ওপর চড়াও হয়। প্রকাশ্য আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, ওই নেতাকে মাটিতে ফেলে লাঠি, লোহার রড এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক কোপ মারা হচ্ছে। তিনি বাঁচার জন্য চিৎকার করলেও দুষ্কৃতীরা লাগাতার তাঁকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়।

আক্রান্ত নেতার মাথা, হাত ও পায়ে গুরুতর আঘাত লেগেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে চম্পট দেয়। এরপরই তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তড়িঘড়ি কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

রাজনৈতিক মহলে তীব্র ক্ষোভ, কাঠগড়ায় তৃণমূল

এই ঘটনার খবর চাউর হতেই নরেন্দ্রপুর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব এই ঘটনার জন্য সরাসরি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব ও তাদের ‘বাইক বাহিনী’কে দায়ী করেছে। বিজেপির অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনের পর থেকেই এলাকায় বিরোধী কর্মীদের ওপর লাগাতার সন্ত্রাস চালাচ্ছে শাসকদল। এই হামলা সেই সুপরিকল্পিত হিংসারই অংশ।

বিজেপি নেতৃত্বের হুঁশিয়ারি: “আমাদের কর্মীকে যেভাবে খুনের উদ্দেশ্যে নৃশংসভাবে মারা হয়েছে, তার জবাব জনগণ দেবে। পুলিশ যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার না করে, তবে নরেন্দ্রপুর থানা ঘেরাও করে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”

অভিযোগ অস্বীকার শাসকদলের, তদন্তে পুলিশ

অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি— এই ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। এটি কোনো পুরনো পারিবারিক বিবাদ বা ব্যক্তিগত শত্রুতার জের হতে পারে। দল কোনো ধরনের হিংসাকে সমর্থন করে না।

নরেন্দ্রপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজটি খতিয়ে দেখে ইতিমধ্যেই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। এলাকায় নতুন করে যাতে কোনো অশান্তি না ছড়ায়, তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে বিভিন্ন এলাকায় চলছে জোর কদম তল্লাশি।c

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy