হোয়াইট হাউসে ফিরতেই নিজের ‘আক্রমণাত্মক’ কূটনীতিতে বিশ্বকে চমকে দিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তাঁর নিশানায় সরাসরি ইরান। পাকিস্তানের সঙ্গে সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের একাধিপত্য নিয়ে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। সাফ জানিয়ে দিলেন, ইরানকে কোনো প্রকার ‘টোল’ বা সুবিধা দিয়ে নিজেদের বিপদ ডেকে আনবে না আমেরিকা। আর এর পরেই এল সেই ভয়ঙ্কর হুঁশিয়ারি— ‘নরকে পাঠিয়ে দেব!’
ঠিক কী কারণে ক্ষিপ্ত ট্রাম্প? দীর্ঘদিন ধরেই পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছে ইরান। অনেক দেশই সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বার্থে তেহরানকে পরোক্ষভাবে সুবিধা বা ‘টোল’ দিয়ে আসছিল। ট্রাম্পের দাবি, এটি আসলে এক ধরণের আন্তর্জাতিক ‘তোলাবাজি’। পাকিস্তানের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প, কিন্তু ইসলামাবাদ তাতে ইতিবাচক সাড়া না দেওয়ায় এবার সরাসরি রণংদেহি মেজাজ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের বিস্ফোরক বার্তা: এদিন একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে ট্রাম্প সরাসরি ইরান সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন:
“আমেরিকা আর কাউকে তোলা দেবে না। আমাদের জলপথ আটকে বা ভয় দেখিয়ে ফায়দা তোলার দিন শেষ। যদি আমাদের স্বার্থে আঘাত লাগে, তবে ইরানকে এমন জায়গায় পাঠাব যার নাম নরক! আমরা স্রেফ বসে তামাশা দেখব না।”
কেন উত্তপ্ত পরিস্থিতি?
হরমুজ দখলের লড়াই: বিশ্বের তেলের বাজারের নাভিশ্বাস তুলতে ইরান প্রায়ই এই পথ বন্ধের হুমকি দেয়। ট্রাম্প সেটি স্থায়ীভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চান।
পাকিস্তানের ব্যর্থ মধ্যস্থতা: ট্রাম্প আশা করেছিলেন পাকিস্তান মধ্যস্থতা করবে, কিন্তু সেই আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় এখন সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগের ইঙ্গিত দিচ্ছে ওয়াশিংটন।
পরমাণু আতঙ্ক: বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর ইরানও চুপ করে থাকবে না। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে পরমাণু যুদ্ধের মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
বিশ্বের প্রতিক্রিয়া: ট্রাম্পের এই ‘কাউবয় ডিপ্লোম্যাসি’ বা সরাসরি ধ্বংসের হুমকিতে উদ্বেগে রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতিমধ্যেই সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে ট্রাম্প বুঝিয়ে দিয়েছেন, ২০২৬-এর এই বদলে যাওয়া ভূ-রাজনীতিতে তিনি তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি থেকে এক চুলও নড়বেন না। ইরান যদি পাল্টা কোনো উস্কানি দেয়, তবে আরব সাগরে বড়সড় যুদ্ধের মহড়া দেখা যেতে পারে যে কোনো মুহূর্তেই।





