দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের অবসান। ভোপালের কয়েকশ কোটি টাকা মূল্যের পৈতৃক জমি নিয়ে চলা মামলায় বড়সড় জয় পেলেন বলিউডের ‘নবাব’ সইফ আলি খান এবং তাঁর পরিবার। সোমবার ভোপালের একটি স্থানীয় আদালত সইফ, তাঁর মা শর্মিলা ঠাকুর এবং বোন সোহা আলি খানের পক্ষে রায় দিয়ে প্রতিপক্ষ দাবিদারদের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
বিরোধের মূলে ১৬.৬২ একর জমি ভোপালের হুজুর তহসিলের নয়াপুরা এলাকায় ১৬.৬২ একর অত্যন্ত মূল্যবান একখণ্ড জমি নিয়ে এই বিবাদের সূত্রপাত। নয়াপুরার তিন বাসিন্দা দাবি করেছিলেন, ১৯৩৬ সালে ভোপালের শেষ নবাব হামিদুল্লাহ খান তাঁদের বাবা প্রয়াত ওয়াকিল আহমেদকে এই জমিটি ‘উপহার’ হিসেবে দিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি ছিল, তাঁদের পূর্বপুরুষরা নবাবের সেবা করায় এই পুরস্কার মিলেছিল এবং বছরের পর বছর ধরে তাঁরাই জমিটি রক্ষণাবেক্ষণ করছেন।
আদালতের কড়া অবস্থান: কেন হারলেন দাবিদাররা? আদালত শুনানিতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, জমিটি উপহার হিসেবে পাওয়ার পক্ষে বাদীরা কোনও জোরালো প্রমাণ বা দলিলে পেশ করতে পারেননি। অন্যদিকে, আইনি নথিতে দেখা গিয়েছে:
-
১৯৪৯ সালের চুক্তি: ভারত সরকারের সঙ্গে ভোপালের একীভূতকরণ চুক্তিতে এই জমিটি স্পষ্টত মনসুর আলি খান পতৌদির ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে নথিবদ্ধ ছিল।
-
পূর্ব ইতিহাস: পতৌদি পরিবার এই জমির বড় অংশ (১২.৬২ একর) ১৯৯৮ সালেই এক নির্মাতার কাছে বিক্রি করে দিয়েছিল, যা বাদীরা আগে চ্যালেঞ্জ করেননি।
রাজপরিবারের জন্য বড় স্বস্তি আদালতের এই রায়ের ফলে সইফ আলি খান ও তাঁর পরিবারের আইনি অধিকার কেবল সুপ্রতিষ্ঠিতই হলো না, বরং ভোপালের বিশাল রাজকীয় সম্পত্তি নিয়ে চলতে থাকা একাধিক বিতর্কেও ইতি পড়ল। ভোপালের মতো শহরে যেখানে জমির দাম আকাশছোঁয়া, সেখানে এই রায়কে একটি ‘ঐতিহাসিক নজির’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।