সরকারি দপ্তরে কাজের গতি বাড়াতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নবান্ন থেকে এবার জারি হলো কঠোর নির্দেশিকা। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, রাজ্যের সব সরকারি কর্মীদের জন্য সকাল ১০টার মধ্যে অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নির্দেশিকার মূল লক্ষ্য হলো জনসেবামূলক কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। নবান্নের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট সময়ের পর অফিসে প্রবেশ করলে তা ‘লেট অ্যাটেনডেন্স’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে কর্মীদের দেরিতে আসা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছিল। মানুষের পরিষেবা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। সেই জটিলতা কাটাতেই প্রশাসন এবার নিয়ম নিয়ে কঠোর হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সব দপ্তরে উপস্থিতির হার নিয়মিত নজরদারি করা হবে। এমনকি, কর্মীরা সময়মতো উপস্থিত হচ্ছেন কি না, তা যাচাই করতে বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্যও খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন।
যেসব কর্মীরা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়াই নিয়মিত দেরিতে অফিসে আসবেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ বা বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে প্রশাসন এও জানিয়েছে, অসুস্থতা, জরুরি পারিবারিক সমস্যা বা বিশেষ পরিস্থিতির ক্ষেত্রে সঠিক নথি জমা দিয়ে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
নবান্নের এই উদ্যোগকে প্রশাসনিক মহলে কাজের শৃঙ্খলা ফেরানোর একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনগুলোর একটি অংশ দাবি করেছে, দূরবর্তী এলাকা থেকে যাতায়াতকারী কর্মীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে কিছুটা নমনীয়তা রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, নবান্নের এই নতুন কড়াকড়ি সরকারি দপ্তরের কাজের সংস্কৃতিতে কতটা পরিবর্তন আনে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। Asianetnews Bangla-র পক্ষ থেকে এই খবরের ওপর নজর রাখা হবে।





