দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) এবং সরকারি নিয়োগ নিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে সোমবার এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পৌনে দু’ঘণ্টার এই দীর্ঘ আলোচনা শেষে রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে ইতিবাচক বার্তা মিলল, তা সরকারি কর্মচারী মহলে স্বস্তির হাওয়া বয়ে এনেছে।
বৈঠক শেষে সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, ডিএ-র বিষয়টি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত সহানুভূতিশীল। আইনি জটিলতা কাটিয়ে কীভাবে দ্রুত কর্মচারীদের এই প্রাপ্য মিটিয়ে দেওয়া যায়, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নবান্ন কাজ শুরু করেছে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। শুধু তাই নয়, ডিসেম্বরের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন দফতরে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আন্দোলনের কারণে শাস্তি বা আইনি মামলার মুখে পড়া কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা কেবল আন্দোলনের খাতিরে বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে শাস্তির মুখে পড়েছেন, তাঁদের একটি তালিকা জমা দিতে হবে। সরকার দ্রুত তাঁদের সম্মানের সঙ্গে কাজে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করবে।
অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনগুলিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে রাজ্যের বিভিন্ন নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ও স্বচ্ছতা ফেরানোর দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, বৈঠকের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত গঠনমূলক। বিগত সরকারের আমলের বিতর্কিত ইস্যুগুলো সরিয়ে রেখে নতুন সরকার যে কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে চাইছে, আজকের এই বৈঠক তারই ইঙ্গিতবাহী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ডিএ মামলা ও নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে রাজ্য প্রশাসনের এই ‘সফট কর্নার’ আগামী দিনে সরকারের প্রতি কর্মীদের আস্থা ফেরাতে বড় ভূমিকা নেবে।
সম্পাদকীয় টিপস: এই প্রতিবেদনের সাথে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নবান্নে বৈঠকের একটি ছবি এবং সরকারি কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতির ছবি ব্যবহার করুন। ডেইলিহান্টের পাঠকদের জন্য ‘বুলেট পয়েন্ট’ আকারে আজকের বৈঠকের মূল প্রাপ্তিগুলো নিচে দিয়ে দিলে রিডাবিলিটি বাড়বে।





