রাজ্য প্রশাসনের সদর দফতর নবান্নে আজ এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ছবি ধরা পড়ল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নবান্ন চত্বরকে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। ড্রোনে নজরদারি থেকে শুরু করে প্রবেশপথে কড়াকড়ি— কোনো দিক থেকেই ফাঁক রাখতে চাইছে না কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য নিরাপত্তা বাহিনী।
দুর্ভেদ্য দুর্গ নবান্ন: সকাল থেকেই নবান্নের প্রতিটি প্রবেশপথে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশির পাশাপাশি, প্রতিটি আগন্তুকের পরিচয়পত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হচ্ছে। এমনকি সচিবালয়ের কর্মীরাও বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি পাচ্ছেন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রীর এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই প্রটোকল অনুযায়ী কোনো ঝুঁকি নেওয়া হচ্ছে না।”
কেন এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠক? সূত্রের খবর, আজকের এই বৈঠকে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে বড়সড় পর্যালোচনা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে রাজ্যের মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-সহ শীর্ষ আধিকারিকদের। লোকসভা নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি বা আসন্ন কোনো বড় উৎসবের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করতেই এই বিশেষ আয়োজন বলে মনে করা হচ্ছে।
সাধারণের প্রবেশে নিয়ন্ত্রণ: নিরাপত্তার স্বার্থে আজ সাধারণ মানুষের জন্য নবান্নে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। ভিড় এড়াতে সংলগ্ন রাস্তাগুলোতে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। সচিবালয়ের চারপাশ এবং গঙ্গার ঘাট সংলগ্ন এলাকাগুলোতেও বিশেষ পুলিশি টহল চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের ঘটে যাওয়া প্রশাসনিক রদবদল এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসনের কড়া বার্তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে এই বৈঠকের সিদ্ধান্তে। এখন দেখার, এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার বেষ্টনীতে হতে চলা বৈঠক থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কী নতুন বার্তা বেরিয়ে আসে।





