রাজ্য প্রশাসনের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্নে সোমবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সভাপতিত্ব করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের সমস্ত দফতরের সচিবদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক কাজের গতিপ্রকৃতি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির বাস্তবায়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। সরকারি সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে যে সমস্ত কেন্দ্রীয় প্রকল্প আটকে ছিল, তা দ্রুত চালু করার জন্য তিনি কড়া নির্দেশ দিয়েছেন।
বৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয় ছিল কেন্দ্রীয় সরকারের জনকল্যাণমুখী প্রকল্পসমূহ। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা, প্রধানমন্ত্রী সড়ক যোজনা, অন্নপূর্ণা যোজনা এবং আয়ুষ্মান ভারতের মতো প্রকল্পগুলিকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রাজ্যে কার্যকর করার জন্য সচিবদের স্পষ্টভাবে বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল সরকারের আমলে নাম পরিবর্তন বা নানা জটিলতায় যে প্রকল্পগুলি থমকে ছিল, সেগুলোকে এবার ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, রাজ্যের সাধারণ মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান নিয়েও এদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বহুপ্রতিক্ষিত প্রকল্প রূপায়ণে তিনি ৫০-৫০ যৌথ অর্থায়নের ফর্মুলা ব্যবহারের কথা বলেছেন। সেচ দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, এই পলিসি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করতে। মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, কেন্দ্রের কর্মসূচির অধীনেই ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করতে হবে যাতে পশ্চিমবঙ্গের এক বিশাল অঞ্চলের মানুষ বন্যার প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়।
আগামী ২২ জুন রাজ্য বাজেট পেশ হতে চলেছে। এই বাজেটে বণিক মহলের মতামত ও পরামর্শ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সচিবদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়াতে এবং কাজের গতি ত্বরান্বিত করতে আগামী ৬ জুন মিলন মেলায় সচিবদের সঙ্গে পুনরায় বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার নবান্নে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। এদিন বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন। পাশাপাশি, আরজি কর সংক্রান্ত সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। সব মিলিয়ে, সরকারের প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।





