২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। সোমবার সাতসকালে হলদিয়ার মহকুমা শাসকের দফতরে সশরীরে হাজির হয়ে নিজের মনোনয়ন পত্র জমা দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে তাঁর এই মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পূর্ব মেদিনীপুরে গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগে রেয়াপাড়া শিব মন্দিরে পুজো দিয়ে জয়ের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন তিনি।
শুভেন্দুর বিরাট ভবিষ্যদ্বাণী: মনোনয়ন পেশ করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী এক বিস্ফোরক দাবি করেন। তিনি বলেন, “২০২১ সালে আমরা ৩ থেকে ৭৭-এ পৌঁছেছিলাম। এবার সেই পরিসংখ্যান ছাড়িয়ে যাবে। আমি নিশ্চিতভাবে বলছি, বিজেপি এবার এককভাবে ১৭৭টিরও বেশি আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসবে।” শুভেন্দুর মতে, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৭৯ লক্ষ ‘ভুয়ো’ ভোটার বাদ যাওয়ায় এবার তৃণমূলের ‘ভোট ব্যাঙ্ক’ ধসে পড়বে।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি: শুভেন্দুর এই হাই-ভোল্টেজ মনোনয়ন পর্বে তাঁর পাশে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ধর্মেন্দ্র প্রধান দাবি করেন, “শুভেন্দু কেবল নন্দীগ্রামের নেতা নন, তিনি গোটা বাংলার পরিবর্তনের মুখ। নন্দীগ্রামের মা-বোনেরাই তাঁকে জেতানোর দায়িত্ব নিয়েছেন।”
নন্দীগ্রাম বনাম ভবানীপুর: উল্লেখ্য, এবারও শুভেন্দু নন্দীগ্রামের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুর থেকেও লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর মূল লক্ষ্য কেবল জয় নয়, বরং তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে উপড়ে ফেলা। শুভেন্দুর এই ‘১৭৭ আসনের টার্গেট’ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। অন্যদিকে, তৃণমূল এই দাবিকে ‘দিবাস্বপ্ন’ বলে কটাক্ষ করেছে।