কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার দেওয়া ‘হট দেশী স্টাইলের’ প্রাতঃরাশের ‘হট স্পাইসি নন-ভেজ দেশী স্টাইল’-এ জবাব দিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। মঙ্গলবার সকালে ডিকের সদাশিবনগরের বাড়িতে সিনিয়র দলনেতার প্রাতঃরাশের টেবিলে হাজির ছিল গরম গরম নট্টি চিকেন। সঙ্গে ছিল ইডলি, ধোসা, উপমা ও কফি-সহ অন্যান্য টিপিক্যাল দক্ষিণ ভারতীয় পদ। ডিকে সুরেশ (বেঙ্গালুরু গ্রামীণের এমপি) ফুলের তোড়া দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।
নট্টি চিকেন: খাবারের রাজনীতি:
নট্টি চিকেন হল এক প্রকার দেশী মুরগি, যা স্থানীয়ভাবে প্রজনন করানো হয় এবং এটি প্রাকৃতিক খাবার খায়। এর মাংস ব্রয়লারের চেয়ে সুস্বাদু, স্বাস্থ্যকর (কম কোলেস্টেরল, অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত) এবং শক্ত হওয়ায় এটি ঢিমে আঁচে দীর্ঘক্ষণ রান্না করতে হয়। এই মাংস দিয়ে চিকেন ঝোল, বিরিয়ানি, মশলা-সহ নানা পদ বানানো হয়। এই স্পাইসি নন-ভেজ পদ পরিবেশন করে শিবকুমার তাঁর স্বতন্ত্র অবস্থান আরও একবার তুলে ধরলেন বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ঐক্যের ঘোষণা ও ২০২৮-এর লক্ষ্য:
গত কয়েক দিন ধরে কর্ণাটক কংগ্রেসের অন্দরে মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদলের যে টানাপড়েন চলছিল, এই প্রাতঃরাশের মাধ্যমেই তার সমাপ্তি ঘটল। শনিবার সিদ্দারামাইয়ার বাসভবনে উপমা-ইডলি খাওয়ার পরে যে ঐক্যের সুর বেঁধেছিলেন শিবকুমার, এদিন নট্টি চিকেন খেয়ে তাতে সিলমোহর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
খাবারের পর দুই নেতাই সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের ছবি পোস্ট করেন। শিবকুমার লেখেন, “আমরা কংগ্রেসের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ এবং রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় দায়বদ্ধ। রাজ্যের উন্নতিতে একসঙ্গে কাজ করে যাব।”
সকল জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া পরে জানান, “আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ২০২৮ সালের বিধানসভা ভোট এবং পুরসভা-পঞ্চায়েত নির্বাচন। আমরা একসঙ্গে চলব।” ডিকে শিবকুমারও জানান, “আমি কংগ্রেসের অনুগত সৈনিক। হাইকমান্ড যা ঠিক করে দেবে, আমরা তাই করব। ২০২৮ সালেও আমরা জয়ের পুনরাবৃত্তি করব।” এই প্রাতঃরাশ কর্ণাটকে ক্ষমতা দখলের জল্পনায় পূর্ণ ছেদ টেনে কংগ্রেসকে ভবিষ্যতের ভোটের জন্য ঐক্যবদ্ধ করল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।