নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের আকাশছোঁয়া দামের মাঝে এবার বড় ধাক্কা এল ধূমপায়ীদের জন্য। দেশজুড়ে ফের বাড়তে চলেছে সিগারেটের দাম। সরকারের নতুন কর কাঠামো বা শুল্ক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রভাবে প্যাকেট প্রতি দাম চড়চড়িয়ে বাড়তে শুরু করেছে। খুচরো বিক্রেতাদের দাবি, ইতিমধ্যেই বড় কোম্পানিগুলো পাইকারি হারে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের পকেটে।
কতটা বাড়তে পারে দাম? বাজার সূত্রে খবর, ব্র্যান্ড ভেদে প্রতি প্যাকেট সিগারেটের দাম গড়ে ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। শুধু প্যাকেট নয়, খুচরো একটি সিগারেট কিনতে গেলেও এখন থেকে ১ থেকে ২ টাকা বেশি দিতে হতে পারে। বিশেষ করে প্রিমিয়াম এবং ফিল্টার করা লম্বা সিগারেটের ক্ষেত্রে শুল্কের হার বেশি হওয়ায় সেগুলোর দাম সবথেকে বেশি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কেন এই দাম বৃদ্ধি? সরকারি সূত্রের খবর, তামাকজাত দ্রব্যের ওপর সেস (Cess) এবং শুল্ক বৃদ্ধির মূল কারণ হলো দুটি: ১. রাজস্ব আদায়: ঘাটতি মেটাতে তামাকজাত পণ্য থেকে বাড়তি কর সংগ্রহের পথে হাঁটছে প্রশাসন। ২. স্বাস্থ্য সচেতনতা: তামাকের ব্যবহার কমিয়ে যুব সমাজকে স্বাস্থ্য সচেতন করতেই দাম বাড়ানোর মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করার এই কৌশল।
দোকানদারদের প্রতিক্রিয়া: শহরের একাধিক পান বিক্রেতা জানাচ্ছেন, “নতুন স্টক আসার আগে থেকেই বাজারে জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেক ডিলার পুরনো দামে মাল ছাড়তে চাইছেন না। ফলে খুচরো বাজারেও আমরা দাম বাড়াতে বাধ্য হচ্ছি।” অন্যদিকে, নিয়মিত ধূমপায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ। অনেকেই বলছেন, “তেল-নুন-চাল থেকে শুরু করে সবকিছুরই দাম বাড়ছে, এবার নেশাটুকুও কি ছাড়তে হবে?”
কোন কোন ব্র্যান্ডের ওপর প্রভাব পড়বে? আইটিসি (ITC) থেকে শুরু করে গোল্ডফ্লেক, নেভি কাট বা মার্লবোরোর মতো প্রায় প্রতিটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের দাম নতুন করে নির্ধারণ করা হচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সমস্ত রিটেইল আউটলেটে নতুন এমআরপি (MRP) সম্বলিত প্যাকেট চলে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আপনার প্রিয় ব্র্যান্ডের দাম বাড়লে কি আপনি নেশা ছাড়ার কথা ভাববেন? নাকি শখ পূরণ করবেন পকেট ফাঁকা করেই?





