ধান কাটার মরশুমে কৃষকদের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা নিয়ে এলো কৃষি দপ্তর। পরবর্তী বছরের জন্য সঠিক উপায়ে ধানের বীজ সংরক্ষণ করা এখন সময়ের দাবি। এই বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি দপ্তর। বীজ সংরক্ষণ না করলে যেমন পরবর্তী চাষে অসুবিধা হবে, তেমনই বাইরে থেকে বীজ কিনতে গিয়ে চাষিদের প্রচুর খরচ হয়ে যায়।
মথুরাপুর ২ নং ব্লক কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের এই বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সহকারী প্রযুক্তি ম্যানেজার (Assistant Technology Manager) সৌরদ্বীপ পিড়ি জানিয়েছেন, সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ না করলে বীজের জীবনীশক্তি ও অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যায়। তিনি সতর্ক করে বলেন, বীজ সংরক্ষণ না করলে ভবিষ্যতে কৃষকেরা হয়তো আর বীজ নাও পেতে পারেন।
সহজেই বীজ সংরক্ষণের আসল কৌশল:
প্রশিক্ষণে উঠে এসেছে বীজ সংরক্ষণের সহজ উপায়। কৃষক উত্তম হালদার জানান, এই প্রক্রিয়ায় বীজের সবথেকে বড় শত্রু হলো আদ্রতা (Moisture) ও তাপমাত্রা (Temperature)। পদ্ধতি সঠিক না হলে বীজ সহজেই ছত্রাক ও পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যায়।
ধান বীজ সংরক্ষণের ধাপসমূহ:
ধান নির্বাচন: ধান কাটার সময়ই ভালো উৎপাদিত ধানের কিছু অংশ আলাদা করে নিতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে, এর সঙ্গে যেন অন্য প্রজাতির ধান মিশে না থাকে।
পাত্র প্রস্তুত: যে পাত্রে ধান সংরক্ষণ করা হবে, তা প্রথমে ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
শুকানো ও তাপমাত্রা: এরপর বীজ এমনভাবে শুকোতে হবে যাতে এর আদ্রতার মাত্রা ১২-১৩ শতাংশের নীচে থাকে।
ঠাণ্ডা করা: বীজ সংরক্ষণের পাত্রে রাখার আগে বীজ ভালো মতো ঠাণ্ডা করে নিলেই কাজ হবে।
এই সহজ পদ্ধতি অবলম্বন করলে কৃষকেরা নিজেরাই পরের বছরের জন্য মানসম্পন্ন বীজ সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা তাদের আর্থিক সাশ্রয়ে সাহায্য করবে।