নাবালিকার ওপর যৌন হেনস্থার একটি মামলায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিতর্কিত রায় নিয়ে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল দেশের শীর্ষ আদালত। জনৈক অভিযুক্তর বিরুদ্ধে নাবালিকার স্তন খামচে ধরা এবং পাজামার দড়ি খুলে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও, এলাহাবাদ হাইকোর্ট সেটিকে ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) হিসেবে গণ্য না করে কেবল শ্লীলতাহানি হিসেবে রায় দিয়েছিল। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে এই রায়ের তীব্র সমালোচনা করে তা খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি এনভি আঞ্জারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন অত্যন্ত ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানায় যে, পকসো (POCSO) আইনের মূল উদ্দেশ্যই হলো শিশুদের যৌন অপরাধ থেকে সুরক্ষা দেওয়া। হাইকোর্টের এই ধরণের পর্যবেক্ষণ অপরাধীদের ভুল বার্তা দেবে এবং নাবালিকার ওপর হওয়া চরম লাঞ্ছনাকে লঘু করে দেখাবে। প্রধান বিচারপতি বলেন, “একটি শিশুর পাজামার দড়ি জোর করে খুলে দেওয়া বা তাঁর স্পর্শকাতর অঙ্গে আঘাত করা কেবল শ্লীলতাহানি হতে পারে না; এটি অত্যন্ত ঘৃণ্য অপরাধ এবং ধর্ষণের প্রচেষ্টার সমতুল্য।”
উল্লেখ্য, এলাহাবাদ হাইকোর্ট তার আগের রায়ে জানিয়েছিল যে, যেহেতু অভিযুক্ত সরাসরি যৌন মিলন সম্পন্ন করতে পারেনি, তাই একে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৬/৫১১ ধারায় ধর্ষণের চেষ্টা বলা চলে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও বিপজ্জনক বলে অভিহিত করেছে। শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপে এবার অভিযুক্তর বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় বিচার প্রক্রিয়া চলবে। পকসো আইনের প্রয়োগ এবং নাবালিকার মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞরা।