দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবার! জাপান-কোরিয়া থেকে যুদ্ধজাহাজ কিনছে ‘সুপারপাওয়ার’ আমেরিকা, কেন এই পিছুটান?

বিশ্বজুড়ে আধিপত্য বজায় রাখলেও নৌ-শক্তির দৌড়ে চীনের কাছে কি তবে পিছিয়ে পড়ছে আমেরিকা? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এল। মার্কিন নৌবাহিনীকে ঢেলে সাজাতে এবার নিজের দেশের বদলে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ভরসা করতে চলেছে পেন্টাগন। ১৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি (১.৮৫ বিলিয়ন ডলার) ব্যয়ে বিদেশি প্রযুক্তিতে যুদ্ধজাহাজ গড়ার এক মেগা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

কেন এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার অন্য কোনো দেশ থেকে বড় যুদ্ধজাহাজ কেনার কথা ভাবছে আমেরিকা। এর পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ:

  • চীনের দাপট: চীন প্রতি বছর ৬ থেকে ১০টি শক্তিশালী ‘ডেস্ট্রয়ার’ বানাচ্ছে। সেখানে আমেরিকা তৈরি করতে পারছে মাত্র ৪টি।

  • বিপুল খরচ: মার্কিন কনস্টেলেশন-শ্রেণির একটি ফ্রিগেট বানাতে খরচ হয় ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি। সেখানে জাপানের মোগামি-শ্রেণির জাহাজে খরচ মাত্র অর্ধেক (৫০ কোটি ডলার)।

  • সময়ের অভাব: মার্কিন জাহাজগুলো তৈরি হতে বছরের পর বছর দেরি হচ্ছে। অন্যদিকে জাপান মাত্র ২ বছরেই উন্নত যুদ্ধজাহাজ তৈরি করে দিচ্ছে।

জাপান ও কোরিয়ার কোন জাহাজ পেন্টাগনের নজরে?

পেন্টাগন মূলত দুটি বিশেষ শ্রেণির জাহাজের ওপর সমীক্ষা চালাচ্ছে:

১. জাপানের মোগামি ক্লাস: ৫,৫০০ টনের এই জাহাজে রয়েছে আধুনিক স্টেলথ প্রযুক্তি। এটি রাডারকে ফাঁকি দিতে ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে ওস্তাদ।

২. দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু ক্লাস: ৩,৬০০ টনের এই জাহাজে রয়েছে ‘সাইলেন্ট ইঞ্জিন’, যা সমুদ্রের নিচে নিঃশব্দে যাতায়াত করতে পারে।

আইনি জটিলতা ও ভারতের প্রতি সংকেত

মার্কিন আইন অনুযায়ী নৌবাহিনীর জাহাজ দেশীয়ভাবে নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক। তবে নৌবাহিনীর জরুরি প্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে এই চুক্তিতে সই করতে পারেন। এরমধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ সংস্থা ‘হানওয়া’ আমেরিকার ফিলাডেলফিয়াতে একটি কারখানা কিনে বিনিয়োগ শুরু করেছে।

এক নজরে তুলনা:

বৈশিষ্ট্যমার্কিন কনস্টেলেশন ক্লাসজাপানি মোগামি ক্লাস
খরচ১০০ কোটি ডলার+৫০ কোটি ডলার
নির্মাণ সময়বহু বছর (বিলম্বিত)মাত্র ২ বছর
প্রযুক্তিট্র্যাডিশনাল মার্কিনঅত্যাধুনিক স্টেলথ ও অটোমেশন

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy