ভারতে সোনা চোরাচালান রুখতে বড়সড় সাফল্য পেল ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI)। মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তল্লাশি চালিয়ে ২৪ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছেন আধিকারিকরা। ধৃতদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং অভিনব উপায়ে— নিজেদের গোপনাঙ্গে সোনা লুকিয়ে পাচার করার অভিযোগ উঠেছে।
কীভাবে ধরা পড়ল এই চক্র?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওত পেতে ছিলেন ডিআরআই আধিকারিকরা। সন্দেহভাজন ২৪ জন বিদেশি যাত্রী নামতেই তাঁদের আটক করা হয়। প্রাথমিকভাবে তাঁদের মালপত্রে কিছু না মিললেও, তাঁদের হাঁটাচলা এবং আচরণে সন্দেহ বাড়ে। এরপরই শুরু হয় কড়া জিজ্ঞাসাবাদ এবং শারীরিক পরীক্ষা।
শরীরের ভেতরে সোনার খনি!
মেডিক্যাল পরীক্ষার পর চক্ষু চড়কগাছ তদন্তকারীদের। দেখা যায়, ধৃতরা প্রত্যেকেই নিজেদের দেহের গোপন অঙ্গে এবং মলাশয়ে ক্যাপসুল আকারে তরল সোনা ও সোনার ছোট ছোট বিস্কুট লুকিয়ে রেখেছেন। অপারেশন চালিয়ে সেই সোনা উদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় লাগে চিকিৎসকদের। উদ্ধার হওয়া সোনার বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের যোগ
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতরা একটি বড় আন্তর্জাতিক সোনা চোরাচালান চক্রের সদস্য। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ সোনা ভারতে ঢোকানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। এদের মধ্যে সুদান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকও রয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে খবর।
কড়া নজরদারি বিমানবন্দরে
বিগত কয়েক মাসে মুম্বই এবং দিল্লি বিমানবন্দরে সোনা পাচারের একাধিক ঘটনা সামনে আসায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ডিআরআই এবং শুল্ক দপ্তর। এই বিপুল পরিমাণ সোনা ভারতের বাজারে কার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল, তার খোঁজে এখন ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।





