হুগলি জেলার রাজনীতিতে ফের ঝোড়ো ব্যাটিং শুরু করলেন চুঁচুড়ার দীর্ঘদিনের বিধায়ক তথা দক্ষ সংগঠক অসিত মজুমদার। তবে এবার তাঁর নিশানায় কোনও বিরোধী দল নয়, বরং নিজের দলেরই তারকা প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাময়িক ‘বিরতি’ কাটিয়ে রাজনীতির ময়দানে ফিরেই অসিত মজুমদারের বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তাঁর সাফ দাবি, “দেবাংশু ভট্টাচার্য যদি হারেন, তবে তার জন্য দায়ী থাকবেন একমাত্র রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।”
বিস্ফোরক অভিযোগের তির: অসিত মজুমদারের অভিযোগ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ভুল তথ্য পরিবেশন করেছেন। তাঁর কথায়, “মিথ্যা কথা বলে উনি দিদির কান ভাঙিয়েছেন।” দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া এই রাজনীতিকের মতে, দলের অন্দরে সমন্বয়হীনতা এবং তারকা প্রার্থীর অতি-সক্রিয়তা বা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে যোগ্য সংগঠকরা কোণঠাসা হচ্ছেন। বিশেষ করে তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের জয়ের পথে রচনা অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে তাঁর ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য দলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
তৃণমূলের অন্দরে ফাটল? অসিত মজুমদার হুগলিতে তৃণমূলের অন্যতম স্তম্ভ। তাঁর মতো একজন অভিজ্ঞ বিধায়ক যখন প্রকাশ্য জনসভায় বা সংবাদমাধ্যমের সামনে দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের প্রশ্নটি সামনে চলে আসে। রাজনৈতিক মহলের মতে, টিকিট বণ্টন বা গুরুত্ব পাওয়া নিয়ে দলের পুরনো কর্মীদের ক্ষোভই অসিতের মুখ দিয়ে বেরিয়ে এসেছে। একদিকে ‘দিদি নম্বর ১’-এর জনপ্রিয়তা, অন্যদিকে গ্রাসরুট লেভেলের পোড়খাওয়া নেতাদের অভিজ্ঞতা—এই দুইয়ের লড়াইয়ে হুগলি ও সংলগ্ন এলাকায় তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের কটাক্ষ: অসিতের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করতে দেরি করেনি বিজেপি ও সিপিআইএম। বিরোধীদের দাবি, তৃণমূলের ঘর এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। যেখানে দলের নেতারাই প্রার্থীর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, সেখানে সাধারণ মানুষ কেন ভোট দেবেন? লোকসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে অসিত মজুমদারের এই ‘স্বমহিমায়’ প্রত্যাবর্তন এবং রচনার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক মেজাজ তৃণমূল হাইকমান্ডকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। এখন দেখার, ‘দিদি’ এই বিবাদ মেটাতে কী পদক্ষেপ নেন।