রাজ্য রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আতঙ্কের নাম SIR (Summary Internal Revision)। সাধারণ মানুষের পর এবার এই তালিকায় নাম জুড়ছে একের পর এক টলিউড সেলেব্রিটির। দেব, কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সৌমিতৃষা কুণ্ডুর পর এবার ‘SIR’ শুনানির নোটিশ পেলেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ তথা অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবং ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ মানালি দে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই গণ-তলব ঘিরে তুঙ্গে উঠেছে বিতর্ক।
মিমির ‘যাদবপুর’ কানেকশন ও বর্তমান পরিস্থিতি: ২০১৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয়েছিল মিমির। রেকর্ড ভোটে জিতে যাদবপুরের সাংসদ হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২০২৪ সালে আচমকাই সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন নায়িকা। বর্তমানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকলেও ভোটার তালিকা সংশোধনের এই ‘জটিল’ প্রক্রিয়া থেকে রেহাই পেলেন না তিনি। মিমি জানিয়েছেন, আগামী ৩১ জানুয়ারি তাঁকে প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। তিনি আইন মেনেই সেখানে যাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন।
বানানের ফেরে বিপাকে মানালি: অন্যদিকে, ‘বউ কথা কও’ খ্যাত অভিনেত্রী মানালি দে-কে ডাকা হয়েছে আগামী ২৭ জানুয়ারি। তাঁর সমস্যাটি আরও বিচিত্র। মানালির বাবার নাম নিতাই দে। বাংলা বানানে কোনো ভুল না থাকলেও, ভোটার তালিকায় ইংরেজি বানানে ‘I’-এর জায়গায় ‘E’ হয়ে গিয়েছে। এই সামান্য স্পেলিং মিস্টেকের জেরেই কসবা বিধানসভা কেন্দ্রের এই ভোটারকে সশরীরে হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছে। মানালির কথায়, “ডাক আসলে তো যেতেই হবে, কিন্তু শুটিংয়ের কাজ বাতিল করে হঠাৎ এমন তলব বড্ড সমস্যা তৈরি করে।”
রাজনীতির রং ও সাধারণের ভোগান্তি: টলিউড তারকাদের একের পর এক তলব নিয়ে সরব হয়েছে ঘাসফুল শিবির। তৃণমূলের দাবি, বিজেপি রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে না পেরে নির্বাচন কমিশনকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। বেছে বেছে সেলিব্রিটিদের তলব করে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ। যদিও বিজেপি এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। আপাতত ৩১ তারিখ মিমির হাজিরা আর ২৭ তারিখ মানালির শুনানি নিয়ে সরগরম টলিপাড়া।