“দুপুরে নিজের হাতে ওরে পেট ভরে খাইয়ে দিয়েছিলাম। হাসিমুখে খেয়ে বেরিয়ে গেল ছেলেটা। কে জানত, ওই দেখাই আমার শেষ দেখা হবে?”— কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন চন্দ্রনাথ রুথের মা। বৃহস্পতিবার চণ্ডীপুরের বাড়িতে যখন চন্দ্রনাথের কফিনবন্দি নিথর দেহ এসে পৌঁছল, তখন শোকের ছায়ায় ঢেকে গিয়েছে গোটা গ্রাম। সবথেকে করুণ দশা সেই মায়ের, যাঁর দুপুরের পরম মমতা মাখানো গ্রাসই আজ ছেলের জীবনের শেষ স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্মৃতির ভিড়ে পাথর মা
বাড়ির আঙিনায় নিথর হয়ে শুয়ে থাকা ছেলের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে ছিলেন বৃদ্ধা মা। স্বজনহারা শোক তাঁকে যেন পাথর করে দিয়েছে। পরিচিতদের কাছে বারবার একটাই কথা বলছিলেন, দুপুরে ঘর থেকে বেরোনোর সময় চন্দ্রনাথ কতটা হাসিখুশি ছিল। মায়ের স্মৃতিতে এখনও জ্বলজ্বল করছে ছেলের সেই শেষ হাসি মুখটা। প্রিয় খাবারের আবদার আর মায়ের হাতের যত্ন— সবটাই এখন চিরকালের মতো থমকে গিয়েছে।
শোকাতুর চণ্ডীপুর ও বিচারের দাবি
চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে কেবল তাঁর পরিবারই নয়, গোটা চণ্ডীপুর এখন শোকস্তব্ধ। পাড়ার মোড়ে মোড়ে মানুষের ভিড়, সবার চোখেই জল। তবে শোকের পাশাপাশি দানা বাঁধছে ক্ষোভও। উপস্থিত মানুষের একটাই দাবি— এই মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। চন্দ্রনাথের মা কাঁদতে কাঁদতেই ক্ষীণ স্বরে জানিয়েছেন, তিনি কেবল তাঁর আদরের সন্তানের এই মর্মান্তিক পরিণতির বিচার চান।
শেষ বিদায় জানাতে উপচে পড়া ভিড়
চন্দ্রনাথকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে হাজার হাজার মানুষ তাঁর বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ গ্রামবাসী— প্রত্যেকেই বাকরুদ্ধ। মায়ের বিলাপ আর প্রতিবেশীদের কান্নায় বাতাস এখন ভারি হয়ে উঠেছে। প্রশাসনিক আধিকারিকদের উপস্থিতিতে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চললেও, এই ট্র্যাজেডি যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না চণ্ডীপুর।
তাজা প্রাণ চন্দ্রনাথের এই অকাল প্রয়াণ এবং তাঁর পরিবারের এই করুণ আর্তি নাড়া দিয়ে গিয়েছে রাজ্যবাসীর মনে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং পুলিশের তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন সবার নজর।
চন্দ্রনাথ রুথ মৃত্যু মামলার প্রতি মুহূর্তের আপডেট এবং অন্তর্তদন্তের রিপোর্ট পেতে চোখ রাখুন DailyHunt-এ। আপনার সহমর্মিতা প্রকাশ করুন আমাদের কমেন্ট বক্সে।





