রাজস্থানের বাঁসওয়ারা জেলার চিত্রোদিয়া গ্রামের মানসিংহের বীরত্ব কোনো বলিউড ব্লকবাস্টার ছবির চিত্রনাট্যের চেয়েও রোমাঞ্চকর। ১৯৮২ সালের ৩রা মার্চের সেই রক্তঝরা রাতটি দীর্ঘ ৪৪ বছর পর আবার ফিরে এল জনসমক্ষে। পুলিশের ধুলোমাখা ফাইল থেকে এক অবিশ্বাস্য সাহসিকতার ইতিহাস উদ্ধার করলেন এসপি সুধীর যোশী। নিজের দুই হাত খুইয়েও কর্তব্যে অবিচল থাকা এই বীরকে অবশেষে দেওয়া হলো তাঁর প্রাপ্য সম্মান।
১৯৮২ সালের সেই রাতে খামেরা থানার ঘাটোল আউটপোস্টে কর্মরত ছিলেন মানসিংহ। গভীর রাতে খবর আসে ৮-১০ জন সশস্ত্র ডাকাত ব্যাংক অফ বরোদার একটি শাখায় হানা দিয়েছে। ব্যাকআপ বা সাহায্যের অপেক্ষা না করে মানসিংহ একাই ঝাঁপিয়ে পড়েন ডাকাত দলের ওপর। ধস্তাধস্তির সময় তিনি একজনকে জাপটে ধরেন। সঙ্গীকে বাঁচাতে বাকি ডাকাতরা তলোয়ার দিয়ে নৃশংস আক্রমণ চালায় মানসিংহের ওপর। তলোয়ারের কোপে তাঁর দুটি হাতই শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিন্তু রক্তাক্ত অবস্থায় দুহাত হারিয়েও পিছু হটেননি তিনি। তাঁর এমন রণমূর্তি দেখে ভয়ে ব্যাংক ডাকাতির পরিকল্পনা ছেড়ে পালিয়ে যায় দস্যুরা। ব্যাংকের সম্পদ রক্ষা পেলেও, রাজস্থান পুলিশ হারিয়েছিল তাঁদের এক রত্নকে।
এই আত্মত্যাগের পর মানসিংহের পরিবার কার্যত ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। তাঁর ছোট ছেলে করণ সিং জানান, বাবার মৃত্যুর মাত্র দুমাসের মাথায় তাঁর ছোট বোন এবং তিন মাসের মাথায় শোক সইতে না পেরে মা নারায়ণ কুনওয়ার মারা যান। মাত্র ৫ ও ৭ বছর বয়সে অনাথ হয়ে যান দুই ভাই। বছরের পর বছর এই বীরত্ব ফাইলবন্দি ছিল। কিন্তু বর্তমান এসপি সুধীর যোশী পুরোনো নথি ঘাঁটতে গিয়ে এই কাহিনী খুঁজে পান এবং স্তম্ভিত হয়ে যান।
অবশেষে রাজস্থান পুলিশ প্রতিষ্ঠা দিবসে মানসিংহকে বিশেষ সম্মান জানানো হলো। পুলিশ লাইনের শিশু উদ্যানটির নাম রাখা হয়েছে ‘শহীদ মনসিংহ বালোদ্যান’। তাঁর দুই ছেলেই এখন সরকারি চাকুরিজীবী। ছোট ছেলে করণ সিং বর্তমানে জগপুরা ফাঁড়ির ইন-চার্জ। ৪৪ বছর পর পাওয়া এই সম্মান নিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে করণ বলেন, “বাবার শাহাদাত আজ অমরত্ব পেল।”





