আজ ধনতেরস, যার মাধ্যমে শুরু হলো আলোর উৎসব দীপাবলির পঞ্চদিনব্যাপী উদযাপন। আগামী ২০ অক্টোবর, সোমবার পালিত হবে মূল দীপাবলি। এই দিনে প্রদীপ জ্বালানোর বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে। কেবল সজ্জা নয়, সমৃদ্ধি এবং আধ্যাত্মিক আলোর প্রতীক এই প্রদীপ। তবে বাস্তুশাস্ত্র মতে, ঘরের কোন দিকে প্রদীপ স্থাপন করা উচিত, সেই বিষয়ে নজর রাখা জরুরি।
প্রদীপ স্থাপনের শুভ দিক:
শাস্ত্র অনুসারে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব (North-East) দিকে প্রদীপের থালা রাখা সবচেয়ে শুভ। কারণ এই দিকটিকে ঈশ্বরের বাস বলে মনে করা হয়। এছাড়াও, দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রদীপ স্থাপন করা উচিত:
১. বাড়ির প্রধান প্রবেশদ্বার (Main Entrance): এটি দেবী লক্ষ্মীকে স্বাগত জানায় এবং ঘরে শুভ শক্তিকে আমন্ত্রণ করে। ২. রান্নাঘর: এখানে প্রদীপ রাখলে আর্থিক বাধা দূর হয় এবং পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসে।
প্রদীপের সংখ্যা ও সময়:
শুভ সংখ্যা: হিন্দুদের ঐতিহ্য অনুসারে, দীপাবলিতে বিজোড় সংখ্যক প্রদীপ জ্বালানো সবচেয়ে শুভ বলে মনে করা হয়। সাধারণত কমপক্ষে পাঁচটি প্রদীপ জ্বালানো উচিত। এটি ধন, সমৃদ্ধি এবং ঐশ্বরিক শক্তি আকর্ষণ করে বলে বিশ্বাস। অনেকে ৫, ৭, ৯, ১১, ৫১ এমনকি ১০১টি প্রদীপ জ্বালিয়ে থাকেন।
উপযুক্ত সময়: প্রদীপ জ্বালানোর সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সন্ধ্যাবেলা, লক্ষ্মী পূজার পর।
তেল: সাধারণত সরিষার তেল ব্যবহার করে প্রদীপ জ্বালানো হয়, যার বিশেষ পৌরাণিক ও আধ্যাত্মিক মূল্য রয়েছে।
ঐতিহ্য ও বিশ্বাস:
জনশ্রুতি অনুসারে, বনবাস শেষে রাবণকে পরাজিত করার পর ভগবান রাম যখন অযোধ্যায় ফিরে এসেছিলেন, তখন অযোধ্যার লোকেরা শহর জুড়ে তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দ উদযাপন করেছিলেন। সেই ঐতিহ্য আজও চলে আসছে। বিশ্বাস করা হয়, প্রদীপের আলো অশুভ শক্তি দূর করে শুভ শক্তি ও ঐশ্বরিক আশীর্বাদের সূচনা করে।
দীপাবলি শুধু উদযাপনের উৎসব নয়, এটি অন্ধকার দূর করে ভালোবাসা, শান্তি ও নতুন আশার আলো স্বাগত জানানোর প্রতীক।