লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার অপসারণ ইস্যুতে দিল্লির রাজনীতি এখন সরগরম। কিন্তু স্পিকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার তোড়জোড় শুরু হতেই বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের অন্দরের ফাটল প্রকাশ্যে চলে এল। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রণকৌশল নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর মতপার্থক্য।
তৃণমূল শিবিরের দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব আনার আগে বিরোধীদের অন্তত ২০০ সাংসদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি শক্তিশালী চিঠি দেওয়া হোক স্পিকারকে। তাঁদের দাবি অনুযায়ী, স্পিকারকে ৩ থেকে ৪ দিনের একটি ডেডলাইন বা সময়সীমা দেওয়া উচিত। যদি তিনি বিরোধীদের দাবি মেনে নেন, তবে ভালো; অন্যথায় চরম পদক্ষেপ হিসেবে অনাস্থা আনা হোক। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, “অনাস্থায় সই করতে আমাদের আপত্তি নেই, কিন্তু আগে চিঠির মাধ্যমে আল্টিমেটাম দেওয়া হোক। ওই রাস্তা তো খোলাই আছে।”
অন্যদিকে, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস এই ‘ধীরে চলো’ নীতিতে নারাজ। সংসদে বারবার বাধার মুখে পড়ে কংগ্রেস চাইছে সরাসরি অনাস্থার পথেই হাঁটতে। সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকে-র মতো দলগুলি কংগ্রেসের পাশেই রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল ছাড়া অনাস্থা আনলে জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবে, আবার সংখ্যার বিচারেও এই প্রস্তাব পাস হওয়া নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সব মিলিয়ে স্পিকার ইস্যু এখন বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ রসায়নের বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।