দিল্লির সংসদ ভবনে যখন ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল (মহিলা সংরক্ষণ বিল ২০২৬) নিয়ে টানটান উত্তেজনা, তখন বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্রেও তার প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। সংবিধান অনুযায়ী লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত হওয়ার কথা থাকলেও, ২০২৬-এর বাংলার নির্বাচনে দলগুলোর প্রার্থী তালিকায় তার প্রতিফলন ঠিক কতটা? পার্থ দাসের বিশেষ প্রতিবেদন।
সংসদে কী ঘটছে? আজ ১৬ এপ্রিল ২০২৬, সংসদের বিশেষ অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছে কেন্দ্র। যার লক্ষ্য হলো ২০২৯ সাল থেকে লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে ৩৩ শতাংশ আসন মহিলাদের জন্য নিশ্চিত করা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করলেও বিরোধীদের প্রশ্ন— এখনই কেন নয়?
বাংলার নির্বাচনে চিত্রটা কেমন? আইন কার্যকর হওয়ার আগেই বাংলার প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো মহিলা ভোটারদের টানতে মরিয়া। তবে ৩৩ শতাংশের জাদুকরী সংখ্যা ছোঁয়ার দৌড়ে একেক দল একেক অবস্থানে:
তৃণমূল কংগ্রেস: বরাবরের মতোই নারী ক্ষমতায়নে এক ধাপ এগিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। এবার ২৯১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৫৫ জন মহিলা প্রার্থী দিয়েছে। শতাংশের বিচারে যা প্রায় ১৯ শতাংশের কাছাকাছি। উল্লেখ্য, ২০২১ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫০।
বিজেপি: দিল্লির সরকার সংরক্ষণের কথা বললেও বাংলায় প্রার্থী তালিকায় সেই ম্যাজিক ফিগার থেকে কিছুটা দূরে তারা। বিজেপি এবার ৩৩ জন মহিলাকে প্রার্থী করেছে। গতবারের তুলনায় সংখ্যাটি সামান্য কমলেও কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে মহিলা ভোটব্যাঙ্ক নিশ্চিতে তারা আশাবাদী।
বাম-কংগ্রেস জোট: সংযুক্ত মোর্চা বা বাম দলগুলো এবার ২৮ জন মহিলাকে টিকিট দিয়েছে, অন্যদিকে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে ৩৯ জন মহিলাকে।
সংরক্ষণ ও বাংলার বাস্তবতা: যদি এই বিল পাস হয়ে বিধানসভা স্তরে কার্যকর হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের মধ্যে অন্তত ৯৭টি আসন মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। বর্তমানে কোনো দলই সেই সংখ্যার আশেপাশে নেই।
কেন এই ব্যবধান? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ‘জিততে পারে’ (winability) এমন প্রার্থীদেরই প্রাধান্য দিচ্ছে। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ বনাম ‘অন্নপূর্ণা’ প্রকল্পের লড়াইয়ে মহিলারা যে নির্ণায়ক শক্তি, তা দলগুলো ভালোই বুঝেছে। তাই সংরক্ষণের আইনি সিলমোহর পড়ার আগেই প্রার্থী তালিকায় তার ছায়া ফুটে উঠছে।





