২০২৬ সালের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়ায় পা রেখেই বাজিমাত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর মোট ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল পেমেন্ট (UPI) থেকে শুরু করে আয়ুর্বেদ এবং প্রতিরক্ষা— এই চুক্তিগুলি দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ককে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ১৬টি চুক্তির মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (DPI) নিয়ে সমঝোতা। এর ফলে ভারতের ‘ইউপিআই’ (UPI) এবার মালয়েশিয়ার বাজারেও দাপট দেখাবে। এছাড়া, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে মালয়েশিয়ার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভারত নিজেদের সেমিকন্ডাক্টর মিশনকে আরও শক্তিশালী করবে। আয়ুর্বেদ এবং প্রথাগত ওষুধের ক্ষেত্রেও একটি বড় চুক্তি হয়েছে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ভারতীয় চিকিৎসার প্রসার ঘটাবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যৌথ মহড়া এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন নিয়েও দুই দেশ একমত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী এই বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, এই ১৬টি চুক্তি কেবল বাণিজ্যের লক্ষ্যেই নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বিপর্যয় মোকাবিলার ক্ষেত্রেও দুই দেশকে একে অপরের পরিপূরক করে তুলবে। বিশেষ করে ডিজিটাল বিপ্লব এবং গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে ভারত ও মালয়েশিয়ার এই মৈত্রী আগামী দিনে চীনের একাধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাবে বলে মনে করা হচ্ছে। আনোয়ার ইব্রাহিমও ভারতের এই ডিজিটাল সাফল্যের প্রশংসা করে জানিয়েছেন, এই সহযোগিতা মালয়েশিয়ার যুব প্রজন্মের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।