‘দিদি লড়েছিলেন বলেই সব আটকে আছে!’ নিয়োগ বিতর্ক নিয়ে রচনার বড় মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে নিয়োগ দুর্নীতি এবং ভোটার তালিকা বা নিয়োগের নাম বাদ পড়া নিয়ে যখন বাগযুদ্ধ চরমে, ঠিক তখনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে জোরালো সওয়াল করলেন হুগলির তৃণমূল প্রার্থী তথা টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নাম বাদ যাওয়া এবং দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়ে রচনা সাফ জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে লড়াই করেছেন বলেই আজও সাধারণ মানুষের অধিকার সুরক্ষিত রয়েছে এবং অনেক নাম এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়। উত্তরে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে রচনা বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে এর জন্যই লড়াই করেছেন। তিনি সেই লড়াইটা চালিয়েছেন বলেই এখনও ওয়েটিং লিস্টে অনেক নাম রয়েছে এবং সেগুলো বিচারাধীন।” রচনার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর মতে, আইনি লড়াইয়ের কারণেই তালিকাগুলো এখনও বাতিল হয়ে যায়নি বা সম্পূর্ণ ধুয়ে মুছে যায়নি।

রচনা আরও যোগ করেন, “আমরা অত্যন্ত আশাবাদী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াইয়ের ফলে আগামী দিনে আমরা অপেক্ষমাণ তালিকা বা ওয়েটিং লিস্ট থেকে অনেক মানুষের নাম বার করে আনতে পারব এবং তাঁদের বিচার দিতে পারব। আমরা সেই অপেক্ষাতেই রয়েছি।” হুগলির নির্বাচনী লড়াইয়ে রচনার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী লকেট চট্টোপাধ্যায় যখন দুর্নীতির ইস্যুতে তৃণমূলকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন, তখন রচনার এই ‘সুপ্রিম কোর্ট’ কার্ড অত্যন্ত কৌশলী চাল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজ্য সরকার সবসময়ই চাকরিপ্রার্থীদের পাশে ছিল। কিন্তু আইনি জটিলতা এবং বিরোধীদের মামলার কারণেই প্রক্রিয়া থমকে গিয়েছে। রচনা সেই সুরেই গলা মিলিয়ে বোঝাতে চাইলেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যদি শীর্ষ আদালতে গিয়ে রুখে না দাঁড়াতেন, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত। হুগলির অলিতে গলিতে প্রচারের ফাঁকে রচনার এই বক্তব্য এখন ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। একদিকে গ্ল্যামার আর অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রীর লড়াইয়ের খতিয়ান—এই দুইকে হাতিয়ার করেই বৈতরণী পার হতে চাইছেন ‘দিদি নম্বর ওয়ান’। এখন দেখার, রচনার এই ব্যাখ্যা সাধারণ মানুষের মনে কতটা জায়গা করে নিতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy