বাংলার পরিবহন মানচিত্রে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের সাক্ষী থাকতে চলেছে রাজ্য। সুদূর উত্তরের দার্জিলিং পাহাড় থেকে দক্ষিণের পুণ্যভূমি গঙ্গাসাগর পর্যন্ত একটি বিশাল ‘মেগা করিডর’ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৭৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডর তৈরি হলে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ—যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী বিপ্লব আসবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
প্রকল্পের বিশেষত্ব: কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়িত হতে চলা এই প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো, পর্যটন এবং পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও দ্রুত ও সুগম করা। বর্তমানে শিলিগুড়ি থেকে গঙ্গাসাগর পৌঁছাতে যে দীর্ঘ সময় লাগে, এই করিডর তৈরির ফলে তা অনেকটাই কমে আসবে। প্রশাসন সূত্রে খবর, এই প্রকল্পের আওতায় কেবল নতুন রাস্তা তৈরি নয়, বরং বিদ্যমান রাস্তাগুলোর প্রশস্তকরণ এবং বিভিন্ন স্থানে ফ্লাইওভার ও বাইপাস তৈরির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে: এই মেগা করিডর কেবল দুটি প্রান্তকে যুক্ত করবে না, বরং এর পথেই থাকা জেলাগুলোর অর্থনীতিতেও এর বড় প্রভাব পড়বে। শিল্পসংস্থাগুলোর পণ্য আদান-প্রদান আরও সহজ হবে এবং পাহাড়ি পর্যটকদের জন্য সরাসরি উপকূলবর্তী অঞ্চলে পৌঁছানোর পথ প্রশস্ত হবে। শিল্পপতিদের মতে, এই যোগাযোগ ব্যবস্থা রাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
প্রশাসনের তৎপরতা: সূত্রের খবর, প্রকল্পের প্রাথমিক নকশা এবং জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের দাবি, এই প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হলে তা ভারতের অন্যতম সেরা সড়ক পরিকাঠামোর উদাহরণ হয়ে উঠবে।
পাহাড়ের শান্তি আর সাগরের নীল জলকে একসূত্রে বাঁধার এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কবে থেকে চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ শুরু করে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বঙ্গবাসী।





