ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের লেলিহান শিখা এবার গ্রাস করল ভারতের শেয়ার বাজারকেও। সপ্তাহের শুরুতেই সোমবার বাজার খুলতেই আক্ষরিক অর্থেই ধস নামল দালাল স্ট্রিটে। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) এবং নিফটি ৫০—উভয় সূচকই রেকর্ড পতনের সম্মুখীন হয়েছে। মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ১৭.৫৯ লক্ষ কোটি টাকা বাজার থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। বিএসই-তে নথিভুক্ত সংস্থাগুলির বাজার মূলধন এক ধাক্কায় ৪৬.৩৫ লক্ষ কোটি থেকে কমে ৪৪.৫৯ লক্ষ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।
শেয়ার বাজারের পাশাপাশি মুদ্রা বাজারেও হাহাকার শুরু হয়েছে। মার্কিন ডলারের তুলনায় ভারতীয় টাকার দাম কমে ৯১ টাকার গণ্ডি অতিক্রম করে সর্বকালীন নিম্নস্তরের রেকর্ড ছুঁয়েছে। অপরিশোধিত তেলের (Crude Oil) আকাশছোঁয়া দাম এবং বিদেশি লগ্নিকারীদের (FII) ক্রমাগত পুঁজি তুলে নেওয়ার প্রবণতাই এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত যে শেয়ারগুলি:
সবচেয়ে বেশি পতন দেখা গিয়েছে ব্লু-চিপ সংস্থাগুলোতে। লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T)-র শেয়ারের দাম পড়েছে প্রায় ৫.৬৯ শতাংশ। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ইন্ডিগো (৪.৩০%), আদানি পোর্টস, মারুতি সুজুকি এবং মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রার মতো বৃহৎ সংস্থাগুলি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ ঘনিয়ে আসছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের এখনই বড় কোনো ঝুঁকি না নিয়ে ‘অপেক্ষা ও নজরদারি’র পরামর্শ দিচ্ছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।