রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে রোগীদের নিরাপত্তা নিয়ে কি চরম গাফিলতি চলছে? প্রশ্নটা তুলে দিল খোদ স্বাস্থ্য দফতর। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও বহু সরকারি হাসপাতালে এখনও অগ্নি নির্বাপণ ব্যবস্থা (Fire Safety System) তথৈবচ। কর্তৃপক্ষের এই উদাসীনতায় এবার চরম ক্ষোভ প্রকাশ করল স্বাস্থ্য ভবন। সাফ জানানো হয়েছে, রোগীদের জীবন নিয়ে কোনো আপস করা হবে না। প্রতিটি কোণে অগ্নি-সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে দ্রুত।
গত কয়েক বছরে রাজ্যের একাধিক হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ছোট-বড় ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে স্বাস্থ্য দফতর কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, অনেক জায়গাতেই অগ্নি নির্বাপক যন্ত্রের মেয়াদ পেরিয়ে গেছে, আবার কোথাও ‘ফায়ার অ্যালার্ম’ কাজ করছে না। এই পরিস্থিতিতে হাসপাতালের আধিকারিকদের জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সমস্ত সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ‘ফায়ার অডিট’ সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরবানা কমপ্লেক্সের সেই স্মৃতি: অগ্নি-সুরক্ষা ও নিরাপত্তার প্রসঙ্গ আসতেই ফিরে আসছে গত বছরের ভয়াবহ স্মৃতি। আনন্দপুরের হাইরাইজ আবাসন আরবানা কমপ্লেক্সের টাওয়ার ৪-এর ১৯ তলা থেকে পড়ে এক মহিলার রহস্যমৃত্যু হয়। এই ধরণের বহুতল বা জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ছিদ্রপথগুলো কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা নিয়ে আজও চর্চা চলে। সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গায় যেখানে হাজার হাজার মানুষ থাকেন, সেখানে সুরক্ষার ন্যূনতম খামতি বড়সড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।