২০২৬ সালের প্রথম প্রভাতেই আধ্যাত্মিকতার আবহে ডুব দিল বাংলা। শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের স্মৃতি বিজড়িত ‘কল্পতরু উৎসব’ উপলক্ষে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দির ও কাশীপুর উদ্যানবাটীতে পুণ্যার্থীদের ঢল নেমেছে। ভক্তদের বিশ্বাস, বছরের প্রথম দিনে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করলে সমস্ত মনোবাসনা পূর্ণ হয়।
১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি ছিল সেই ঐতিহাসিক দিন। মারণ রোগে আক্রান্ত শ্রীরামকৃষ্ণ তখন কাশীপুর উদ্যানবাটীতে চিকিৎসাধীন। সেইদিন তিনি স্বরূপে ভক্তদের দর্শন দিয়ে আশীর্বাদ করেছিলেন— ‘তোদের চৈতন্য হোক’। ভক্তদের চোখে সেদিন ঠাকুর হয়েছিলেন ‘কল্পতরু’। সেই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণ করেই প্রতি বছর ১ জানুয়ারি উৎসবের আয়োজন করা হয়। এদিন ভোর থেকেই দক্ষিণেশ্বরে গঙ্গার ঘাটে পুণ্যস্নান সেরে মন্দিরে লাইন দিয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
দক্ষিণেশ্বর ছাড়াও বেলুড় মঠ এবং রাজ্যের বিভিন্ন রামকৃষ্ণ মিশনে বিশেষ পুজো, আরতি ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়েছে। ভিড় সামলাতে প্রশাসন অত্যন্ত সক্রিয়। দক্ষিণেশ্বর চত্বরে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী, ড্রোনের মাধ্যমে চলছে নজরদারি। একইসঙ্গে স্বেচ্ছাসেবকরাও ভক্তদের লাইন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন। নতুন বছরের শুরুতে আস্তিক বাঙালির কাছে কল্পতরু উৎসব কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এক পরম আশ্রয়ের দিন।