তৈরি হচ্ছে অ্যাকশন প্ল্যান! রাজ্যের পুলিশ কর্তাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক সিইও-র, এবার কি আরও কড়া হবে প্রশাসন?

২০২৬ সালের হাইভোল্টেজ নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড়সড় নড়চড় শুরু করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে বৃহস্পতিবার ফের পুলিশের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO)। সূত্রের খবর, সংবেদনশীল বুথ চিহ্নিতকরণ থেকে শুরু করে রাজ্যে আসা কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন— সব কিছু নিয়েই পুলিশের থেকে চূড়ান্ত রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন। কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশকে এখন থেকেই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুধু পুলিশের সঙ্গে বৈঠকই নয়, এদিন আরও একধাপ এগিয়ে এনফোর্সমেন্ট এজেন্সিগুলোর সঙ্গেও ভার্চুয়াল কনফারেন্স করতে চলেছে সিইও দপ্তর। নির্বাচনে টাকার খেলা রুখতে আয়কর দপ্তর, ইডি (ED) এবং কাস্টমস কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দেওয়া হতে পারে। ভার্চুয়াল বৈঠকে মূলত নজরদারি চালানো হবে বেআইনি লেনদেন এবং মদ ও ড্রাগ পাচারের ওপর। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট— ভোটের সময় যাতে এক পয়সাও অনৈতিকভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করতে না পারে, তার জন্য সমস্ত এজেন্সিকে এখন থেকেই কোমর বেঁধে নামতে হবে।

প্রশাসন সূত্রের খবর, এই বৈঠকগুলোতে মূলত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ঝুলে থাকা জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্ট (NBW) কার্যকর করার ওপর। রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের সাথে আলোচনার পর সিইও দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যদি কোনো গাফিলতি দেখা যায়, তবে সংশ্লিষ্ট থানার ওসির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের কয়েক মাস আগে থেকেই গোটা রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোকে কার্যত নিজের হাতের মুঠোয় নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy