ইরানের সামরিক নেতৃত্বের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত হেনেছে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ বাহিনী। তেহরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে চলাকালীন মার্কিন বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মেজর জেনারেল আবদোলরাহিম মুসাভি। এই হামলায় মুসাভি ছাড়াও প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, রেভল্যুশনারি গার্ডস কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং ডিফেন্স কাউন্সিলের প্রধান আলি শামখানিসহ ৩০ থেকে ৪০ জন শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাতে তেহরানের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়ের স্থানে, যখন সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের বৈঠক চলছিল। এই হামলাকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ‘নির্ভুল এবং শক্তিশালী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের সামরিক কমান্ডার মুসাভি গত বছর চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছিলেন। সেনাবাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের মধ্যে সমন্বয় সাধনে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।
মুসাভির মৃত্যুতে ইরান এক গভীর সংকটের মুখোমুখি হলেও, আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে তীব্র সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইরানে বিক্ষোভ দমনে তাঁর কঠোর ভূমিকার কারণে মানবাধিকার সংস্থাগুলো তাঁকে কাঠগড়ায় তুলেছিল। মাহসা আমিনির মৃত্যুর পরবর্তী আন্দোলন দমন এবং হাজার হাজার আন্দোলনকারীকে নির্যাতনের অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত ছিলেন। এ কারণেই অনেক বিরোধী গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মী তাঁর মৃত্যুকে ‘ঐশ্বরিক ন্যায়বিচার’ হিসেবে দেখছেন।
এই ঘটনা তেহরানের প্রতিরক্ষা কাঠামোকে কতটা দুর্বল করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। যুদ্ধের এই পর্যায়ে একের পর এক শীর্ষ নেতার মৃত্যুর ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।