মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬—তেহরান এবং তেল আবিবের মধ্যে সংঘাত এক চরম ও বিধ্বংসী পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার রাতে ইজরায়েলি হানায় ইরানের নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানির মৃত্যুর পর, বুধবার সকালে ইজরায়েলের হৃদপিণ্ড তেল আবিব লক্ষ্য করে একের পর এক ‘ক্লাস্টার মিসাইল’ (Cluster Missiles) ছুড়ল ইরান।
ইজরায়েলের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক: গোয়েন্দা প্রধানের মৃত্যু ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে যে, রাতভর চালানো বিশেষ অভিযানে ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে (Esmail Khatib) খতম করা হয়েছে। গত তিন দিনে এটি ইরানের তৃতীয় বড় ক্ষতি। এর আগে আলি লারিজানি এবং বাসিজ ফোর্সের প্রধান গোলামরেজা সোলেমানি ইজরায়েলি হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, “আজ আমি আরও দুটি নাম তালিকা থেকে মুছে দিয়েছি।”
ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’: কাঁপছে তেল আবিব আলি লারিজানি হত্যার বদলা নিতে ইরান শুরু করেছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’। ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ডস (IRGC) জানিয়েছে:
-
১০০-র বেশি টার্গেট: তেল আবিব ও তার সংলগ্ন এলাকায় ১০০-র বেশি সামরিক ও নিরাপত্তা কেন্দ্রে আঘাত হেনেছে ইরানের খোররামশাহর-৪ এবং কদর মিসাইল।
-
ক্লাস্টার ওয়ারহেড: এবার ইরান এমন মিসাইল ব্যবহার করেছে যা মাঝ আকাশে ভেঙে একাধিক ছোট বোমায় পরিণত হয়, ফলে ইজরায়েলের অত্যাধুনিক ডিফেন্স সিস্টেমও তা পুরোপুরি রুখতে ব্যর্থ হয়েছে।
-
হতাহত: তেল আবিবের কাছে রামাত গানে ইরানের মিসাইল হামলায় ২ জন ইজরায়েলি নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং বহু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে বিস্ফোরণ: উত্তজনা আরও বাড়িয়েছে বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছের এক বিস্ফোরণ। আইএইএ (IAEA) জানিয়েছে, একটি প্রজেক্টাইল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাছে আছড়ে পড়লেও বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহল এখন পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কায় কাঁপছে।
বর্তমান পরিস্থিতি: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই-এর নেতৃত্বাধীন সরকার এই যুদ্ধে একচুল জমিও ছাড়তে নারাজ। অন্যদিকে মার্কিন-ইজরায়েল জোট ইরানের তেল ও গ্যাস পরিকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। তেলের দাম বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে, যা এক বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।