দেশের গর্ব এবং আকাশসীমার প্রহরী তেজাস এমকে১এ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি নিয়ে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (এইচএএল)-এর অত্যন্ত সংবেদনশীল এই প্রকল্পের যন্ত্রাংশ সরবরাহের ক্ষেত্রে বড়সড় কারচুপির অভিযোগ উঠেছে হায়দ্রাবাদ-ভিত্তিক সংস্থা টিইসি অ্যারো ডিভাইসেস-এর বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তেজাসের যন্ত্রাংশের গুণমান প্রমাণ করতে সংস্থাটি ১৯৯টি জাল পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই নড়েচড়ে বসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই বিমান প্রস্তুতকারী সংস্থা।
ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের মার্চ মাসে, যখন তেজাস প্রকল্পের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরির লক্ষ্যে টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রয়াদেশ প্রদান করে এইচএএল। চুক্তিমতো যন্ত্রাংশের গুণমান ও স্থায়িত্বের প্রমাণস্বরূপ ওই সংস্থাটি নিয়মিত পরীক্ষার রিপোর্ট জমা দিচ্ছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের ৩৫ ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে বিপত্তি ঘটে এইচএএল-এর অভ্যন্তরীণ মান যাচাই প্রক্রিয়ার সময়।
নিয়মিত অডিটের অংশ হিসেবে এইচএএল যখন ওই সংস্থার কাছে পরীক্ষার মূল রিপোর্টগুলো দেখতে চায়, তখনই গড়বড় ধরা পড়ে। সংস্থাটি কোনো সদুত্তর দিতে ব্যর্থ হয়। এরপরই এইচএএল তৃতীয় পক্ষের পরীক্ষক সংস্থা ‘অ্যাক্সিস ইন্সপেকশন সলিউশনস’-কে দিয়ে আলাদা করে নিরীক্ষা করায়। এই তদন্তেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে জমা দেওয়া ১৯৯টি পরীক্ষার রিপোর্টই ছিল সম্পূর্ণ জাল। মূলত পরীক্ষক সংস্থাটির লেটারহেড এবং নাম ব্যবহার করে এই ভুয়ো নথি তৈরি করা হয়েছিল।
জাতীয় নিরাপত্তা এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ অভিযানের স্বার্থে এইচএএল এই বিষয়ে বিন্দুমাত্র আপস করেনি। সংস্থাটি দ্রুত টিইসি অ্যারো ডিভাইসেসকে তিন বছরের জন্য কালো তালিকাভুক্ত করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্বস্তির খবর এটাই যে, এই জালিয়াতি ধরা পড়ার আগেই এইচএএল সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কোনো অর্থ প্রদান করেনি।
তেজাস এমকে১এ ভারতীয় বিমান বাহিনীর মেরুদণ্ডস্বরূপ। এই প্রকল্পের প্রতিটি যন্ত্রাংশের মান অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। যন্ত্রাংশের স্থায়িত্ব বা গুণমান নিয়ে কোনো রকম আপস করলে যুদ্ধবিমানের কার্যকারিতা ও পাইলটদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরশীলতার এই যাত্রায় এই ধরণের জালিয়াতিকে দেশদ্রোহিতার শামিল হিসেবেই দেখছে সামরিক বিশেষজ্ঞ মহল। এইচএএল-এর এই দ্রুত তৎপরতা এবং কঠোর পদক্ষেপ ভবিষ্যতে এমন জালিয়াতির ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ হয়ে থাকবে।





