তৃণমূলের রক্তচাপ বাড়িয়ে উত্তরবঙ্গে একজোট কামতাপুর ও বিজেপি! নেপথ্যে কি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস?

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক সমীকরণে এক অভাবনীয় বদল এল। পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে সোচ্চার থাকা কামতাপুর স্টেট ডিমান্ড কাউন্সিল (KSDC) বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিজেপি (BJP)-কে সমর্থনের কথা ঘোষণা করল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্কে এই সিদ্ধান্ত বড়সড় প্রভাব ফেলতে চলেছে, যা বিজেপিকে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দিল।

লড়াই থেকে কেন সরে দাঁড়াল KSDC?

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর উত্তরবঙ্গের ৪০টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছিল জীবন সিংহ সমর্থিত এই সংগঠনটি। ইতিমধ্যে অনেক কেন্দ্রে মনোনয়ন জমা দিয়ে প্রচারও শুরু করে দিয়েছিলেন তাদের প্রার্থীরা। তবে হঠাৎ এই ভোলবদলের কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া আশ্বাসকে সামনে এনেছে সংগঠনটি।

দিল্লির আশ্বাসেই কি বরফ গলল?

সংগঠন সূত্রে খবর, পৃথক রাজ্যের দাবি এবং কেএলও (KLO) প্রধান জীবন সিংহ ও ডি এল কোচের সঙ্গে শান্তি চুক্তির বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে টানাপোড়েন চলছিল।

  • শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক জনসভাগুলোতে রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং শান্তি চুক্তির বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

  • বিজেপিকে পূর্ণ সমর্থন: সেই আশ্বাসের ওপর ভরসা রেখেই KSDC তাদের সমস্ত প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনের সভানেত্রী তপতী রায় মল্লিক জানিয়েছেন, এখন থেকে তাদের সমস্ত কর্মী-সমর্থক পদ্ম শিবিরের হয়েই ময়দানে নামবেন।

ভোটের অঙ্কে কতটা প্রভাব পড়বে?

উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে রাজবংশী ও কামতাপুরি ভোট বরাবরই নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করে। KSDC ময়দান থেকে সরে যাওয়ায় ভোট কাটাকুটির সম্ভাবনা কমে গেল, যার সরাসরি লাভ তুলতে পারে বিজেপি। অন্যদিকে, এই জোটের ফলে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে উত্তরবঙ্গের আসনগুলি পুনরুদ্ধার করা কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করা হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy