২০২৬-এর ‘মহারণ’-এর দামামা বেজে গিয়েছে। জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল। তবে এবারের তালিকায় যে পরিমাণ রদবদল করা হয়েছে, তা দেখে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও চমকে যাচ্ছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নতুন ‘ব্লু-প্রিন্ট’ কি বিরোধীদের জমি কেড়ে নেবে?
পুরনো চাল বনাম নতুন রক্ত: এবারের প্রার্থী তালিকায় সবথেকে বড় চমক হলো ‘পারফরম্যান্স কার্ড’। সূত্রের খবর, গত পাঁচ বছরে যাঁদের কাজের খতিয়ান সন্তোষজনক নয়, এমন প্রায় ৪০ শতাংশ বর্তমান বিধায়ককে টিকিট দেওয়া হয়নি। তাঁদের জায়গায় অগ্রাধিকার পেয়েছেন ছাত্র ও যুব সংগঠনের লড়াকু মুখেরা।
তালিকায় লুকিয়ে থাকা আসল চমকগুলি:
-
তারকা প্রার্থীর সংখ্যা হ্রাস: গতবারের তুলনায় এবার গ্ল্যামার জগতের মানুষের চেয়ে রাজনীতির ময়দানে ঘাম ঝরানো কর্মীদের বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
-
মহিলা ও সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব: বরাবরের মতো এবারও মহিলা প্রার্থীদের সংখ্যায় জোর দেওয়া হয়েছে, তবে তাতে যুক্ত হয়েছে একঝাঁক নতুন উচ্চশিক্ষিত মুখ।
-
অভিষেকের ‘নবজোয়ার’ ফর্মুলা: প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই পুরনো ‘ব্যালট বক্স’ সার্ভের প্রভাব স্পষ্ট। সাধারণ মানুষের পছন্দের নিরিখেই টিকিট চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এক নজরে নজরকাড়া কেন্দ্রগুলি: দক্ষিণ কলকাতা থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের চা বলয়— সর্বত্রই প্রার্থীদের নামের পাশে বড় বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলছে। অনেক হেভিওয়েট নেতার কেন্দ্র বদল করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
তৃণমূলের এই পূর্ণাঙ্গ তালিকা কি আপনি মন দিয়ে দেখেছেন? কিছু নাম এমন আছে যা আপনাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করবে। দলের অন্দরের খবর, এই তালিকা তৈরি হয়েছে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে, যেখানে আবেগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ‘উইনেবিলিটি’ বা জেতার ক্ষমতা।