তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে রক্তক্ষয়ী বঙ্গ! হাড়োয়ার বুথ সভাপতিকে কুপিয়ে খুন মিনাখাঁয়, কাঠগড়ায় খোদ ব্লক সভাপতি

পঞ্চায়েত ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের রক্তাক্ত উত্তর ২৪ পরগনা। মিনাখাঁ থেকে উদ্ধার হলো হাড়োয়া বিধানসভার এক প্রভাবশালী তৃণমূল নেতার ক্ষতবিক্ষত দেহ। নিহতের নাম কাজী মসিউর রহমান। তিনি চাপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। এই নৃশংস খুনের ঘটনায় দলেরই এক গোষ্ঠীর দিকে আঙুল তুলেছেন নিহতের পরিবার ও অনুগামীরা, যা নিয়ে চরম অস্বস্তিতে শাসক শিবির।

বৃহস্পতিবার সকালে মিনাখাঁ বিধানসভার সোনাপুকুর শঙ্করপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঝুঝুরগাছা এলাকায় রাস্তার ধারে একটি রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। দেখা যায়, যুবকের শরীরের একাধিক জায়গায় ধারালো অস্ত্রের কোপ রয়েছে। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় হাড়োয়া থানার পুলিশ। পরে দেহটি শনাক্ত করা হলে জানা যায়, মৃত ব্যক্তি হাড়োয়ার সক্রিয় তৃণমূল কর্মী কাজী মসিউর রহমান।

মসিউরের মৃত্যুর পর তৃণমূলের অন্দরের বিবাদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ধনঞ্জয় প্রামাণিক এবং নিহতের স্ত্রী সাবিনা বিবির দাবি, এটি কোনো বাইরের হামলা নয়, বরং দলের ভেতরের শত্রুতার ফল।

সুব্রত বসু বনাম হুমায়ুন বেদে: অভিযোগ উঠেছে, দেগঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের সভাপতি সুব্রত বসুর অনুগামীদের সঙ্গে কাজী মসিউরের (যিনি হুমায়ুন বেদে চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ ছিলেন) দীর্ঘদিনের বিবাদ ছিল।

রাস্তা নিয়ে বিবাদ: ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্পের একটি ঢালাই রাস্তা তৈরি নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদ করেছিলেন মসিউর। সেই আক্রোশেই তাঁকে খুন করা হতে পারে বলে প্রাথমিক অনুমান।

নিহতের স্ত্রী সাবিনা বিবির অভিযোগ আরও গুরুতর। তিনি জানান, কয়েকদিন আগেই মসিউর ও তাঁর ভাইয়ের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। সেই সময় দেগঙ্গা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ তা নেয়নি। গতকাল রাতে একটি ফোন পেয়ে মসিউর বাড়ি থেকে বেরোন এবং তারপর আর ফেরেননি।

ভোটের আগে খোদ বুথ সভাপতির এমন নৃশংস খুনের ঘটনায় হাড়োয়া ও মিনাখাঁ এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। এলাকা দখল এবং দলীয় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই এই খুন কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। যদিও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃণমূলের উচ্চ নেতৃত্বের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy