রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পশ্চিমবঙ্গ সফর ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের রেশ এবার পৌঁছে গেল খোদ প্রধানমন্ত্রীর দরবারে। রবিবার এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বাংলার শাসকদলের “ক্ষমতার অহঙ্কার” খুব শীঘ্রই সাধারণ মানুষের দ্বারা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। বিশেষ করে দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে রাজভবন ও নবান্নের মধ্যে যে প্রটোকল সংঘাত তৈরি হয়েছে, তাকে কেন্দ্র করেই মোদির এই আক্রমণ।
প্রধানমন্ত্রী এদিন বলেন, “বাংলার মাটি সংস্কৃতির মাটি, কিন্তু বর্তমান সরকার সেখানে শিষ্টাচার ভুলেছে। একজন আদিবাসী মহিলা যখন দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন হন, তখন তাঁকে সম্মান করা প্রতিটি রাজ্যের কর্তব্য। কিন্তু বাংলায় বারবারই বিপরীত ছবি দেখা যাচ্ছে।” মোদির অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে সাংবিধানিক পদাধিকারীদের অসম্মান করা—তৃণমূলের দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন যে, সাধারণ মানুষ এই ঔদ্ধত্য আর সহ্য করবে না।
সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির বঙ্গ সফরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতি বা প্রটোকল সংক্রান্ত ত্রুটি নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল। পালটা তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মোদিজি উন্নয়ন বাদ দিয়ে কেবলই রাজনৈতিক আক্রমণ করছেন। তবে ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, বঙ্গ রাজনীতিতে রাষ্ট্রপতি ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার তৃণমূলের ওপর চাপ বজায় রাখতে চায়। ৫৫০ শব্দের এই বিশেষ প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সংঘাতের প্রতিটি পর্যায় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।