তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে যখন ভাঙনের জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই দলের অন্দরের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে বিস্ফোরণ ঘটালেন বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋজু দত্ত। সম্প্রতি সই বিতর্ক নিয়ে যখন গোটা রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, তখন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়ে ঋজু দত্তের করা একটি মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ঋজুর এই সাহসী ও বিস্ফোরক দাবি কি তৃণমূলের অন্দরে কোনো নতুন ফাটল বা পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে ঋজু দত্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই আসল তৃণমূল।” ঋজুর এই মন্তব্য শুধুমাত্র একটি সাধারণ প্রতিক্রিয়া নয়, বরং শাসকদলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দিকে আঙুল তোলার সমান বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। বহিষ্কৃত হওয়ার পরেও দলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে ঋজু দত্তর এহেন মন্তব্যে শাসক শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি বেড়েছে।
সই বিতর্ক নিয়ে রাজ্যজুড়ে যখন নানা জল্পনা চলছে, সেই সময়ে ঋতব্রতর প্রতি ঋজু দত্তর সমর্থন আদতে একটি রাজনৈতিক কৌশলের অংশ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ঋজু দত্ত দাবি করেন, যারা আজ দলের পদ আঁকড়ে বসে আছেন, তারা প্রকৃত তৃণমূলের আদর্শ থেকে সরে গিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের ভেতরে এমন কিছু নেতা সক্রিয় রয়েছেন, যারা নিজের আখের গোছাতেই বেশি ব্যস্ত। আর সেই কারণেই দলের পুরোনো ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতারা আজ কোণঠাসা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ঋজু দত্তের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে তৃণমূলের অন্দরে মতাদর্শগত লড়াই তীব্র হচ্ছে। এক সময়কার প্রভাবশালী নেতা ঋজু দত্তর বহিষ্কারের পরেও তাঁর এই সরব উপস্থিতি দলবিরোধী কার্যকলাপের নতুন কোনো অধ্যায় সূচনা করছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়েছে।
ঋজু দত্তের এই বক্তব্যের ভিডিওটি সামনে আসতেই তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছে। নেটিজেনদের একাংশের মতে, তিনি সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। বিশেষ করে যেভাবে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আসল তৃণমূল’ বলে অভিহিত করেছেন, তাতে দলীয় কর্মীদের একাংশের মনে ধোঁয়াশা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি তৃণমূলের অন্দরে এখন পাল্টা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে?
তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও এই বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী দলের অন্দরে ঋজু দত্তর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বিরোধীরা এই পরিস্থিতিকে পুঁজি করে ইতিমধ্যেই কটাক্ষ করতে শুরু করেছে। তাদের মতে, তৃণমূলের অন্দরের এই ভাঙন কেবল সময়ের অপেক্ষা।
সব মিলিয়ে ঋজু দত্তের এই বিস্ফোরক মন্তব্য যে তৃণমূলের অস্বস্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন দেখার বিষয়, দল এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় কী পদক্ষেপ নেয় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় কী অবস্থান গ্রহণ করেন। রাজনৈতিক উত্তাপের এই আবহে ঋজু দত্তর এই সাহসী বিবৃতি যে আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতির পট পরিবর্তন করতে পারে, সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।





