২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে বাংলার রাজনীতিতে নতুন এক কম্পন সৃষ্টি করলেন মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের প্রভাবশালী নেতা তথা তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থীতালিকা ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্ষোভের সুর শোনা যাচ্ছিল, কিন্তু হুমায়ুন যা করলেন তা এক কথায় অভাবনীয়। বুধবার বিকেলে তিনি ঘোষণা করেছেন, আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের ১৮২টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দেবে তাঁর অনুগামীরা। এই ঘোষণায় কার্যত অস্বস্তিতে শাসক শিবির।
বেশ কিছুদিন ধরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে হুমায়ুনের দূরত্ব বাড়ছিল। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলায় সংগঠনের রাশ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বারবার সরব হয়েছিলেন তিনি। এদিন ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন যে, তিনি আর কেবল একটি নির্দিষ্ট কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে থাকতে রাজি নন। তাঁর লক্ষ্য এখন নবান্নের মসনদে নির্ণায়ক শক্তি হিসেবে উঠে আসা।
রাজনৈতিক মহলের মতে, হুমায়ুনের এই পদক্ষেপ মূলত সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরাতে পারে। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে যেখানে সংখ্যালঘু ভোটের প্রভাব বেশি, সেখানে হুমায়ুনের প্রার্থীরা তৃণমূলের ভোট কাটলে সুবিধা হতে পারে বিরোধীদের। যদিও হুমায়ুন নিজে জানিয়েছেন, তিনি কোনো দলের সুবিধা করে দিতে নয়, বরং নিজের অস্তিত্ব এবং লড়াইয়ের মর্যাদা পেতেই এই পথ বেছে নিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন উঠছে, এই ১৮২টি আসনে হুমায়ুন কি নির্দল হিসেবে প্রার্থী দেবেন নাকি নতুন কোনো রাজনৈতিক মঞ্চের আত্মপ্রকাশ ঘটবে? তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই বিষয়ে এখনও কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয়নি। তবে ভোটের আগে এই ‘অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহ’ তৃণমূলের জয়ের হ্যাটট্রিকের পথে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
DailyHunt-এর পাঠকদের জন্য প্রশ্ন: ১৮২ আসনে হুমায়ুন কবীরের প্রার্থী দেওয়া কি তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে ধস নামাবে? আপনাদের মতামত কমেন্টে জানান।