দিল্লি সফরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনঘন বৈঠক ঘিরে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে এখন তুঙ্গে জল্পনা। কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে এই সাক্ষাৎ কি কেবল ‘ইন্ডিয়া’ জোটের রণকৌশল তৈরি? নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার কোনো বড় পরিকল্পনা? অবশেষে এই জল্পনা নিয়েই মুখ খুললেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল।
কী বললেন কে সি বেণুগোপাল? সম্প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাহুল গান্ধীর বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে কানাঘুষো শুরু হয়—তৃণমূল কি তবে কংগ্রেসের সঙ্গে মিশে যেতে চলেছে? এই প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে বেণুগোপাল সরাসরি কোনো উড়িয়ে দেওয়ার মতো মন্তব্য করেননি। তিনি জানান, “বর্তমানে আমাদের মূল লক্ষ্য হলো বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোট তৈরি করা। ইন্ডিয়া জোটের মঞ্চে সকলেই একজোট হয়ে লড়াই করছি। জোটের শরিকদের মধ্যে আলোচনার কোনো শেষ নেই।” তবে সংযুক্তিকরণের সরাসরি কোনো নিশ্চিত তথ্য তিনি দেননি।
জল্পনার নেপথ্যের কারণ:
ঘনঘন বৈঠক: গত কয়েকদিনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কংগ্রেসের হাইকমান্ডের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ: বিজেপির আগ্রাসন রুখতে বিরোধী দলগুলির মধ্যে পুরনো বিভাজন মুছে ফেলে নতুন করে একজোট হওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে অনেক মহলের নেতৃত্ব।
অভিষেকের ভূমিকা: তৃণমূলের অন্দরে যখন নানাবিধ অস্থিরতা চলছে, তখন জাতীয় রাজনীতিতে অভিষেকের ভূমিকা এবং কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা এই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতামত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের উৎপত্তি কংগ্রেস থেকেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফিরে আসা বা দুই দলের সংযুক্তিকরণ তাত্ত্বিকভাবে অসম্ভব না হলেও, রাজনৈতিকভাবে তা বেশ জটিল। তবে তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান অস্থিরতা এবং বিজেপির মোকাবিলায় কোনো ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দেওয়ার কৌশল হিসেবে যদি সত্যিই কোনো ‘মার্জার’ বা সংযুক্তিকরণের কথা ভেবে থাকে, তবে তা ভারতীয় রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।
আপাতত বেণুগোপালের রহস্যময় মন্তব্য জল্পনাকে আরও কিছুটা উসকে দিয়ে গেল। এখন দেখার, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের প্রকৃত নির্যাস কী এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক চিত্রপট ঠিক কোন দিকে মোড় নেয়।





