চুরির অধিকার চেয়ে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর! পশ্চিম বর্ধমানের শিল্পাঞ্চলে ঘটে যাওয়া এই নজিরবিহীন ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম অস্বস্তিতে শাসকদল। অভিযোগ, একদল যুবক প্রকাশ্যে দাবি তোলে যে, তাদের কয়লা চুরি করতে দিতে হবে। আর এই দাবি নিয়ে তৃণমূলের স্থানীয় অফিসে গিয়ে তারা বিক্ষোভ দেখায় এবং একপর্যায়ে অফিসের আসবাবপত্র ও সম্পত্তি ভাঙচুর করে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে বিরোধী পক্ষ। বিজেপি ও সিপিআইএম-এর পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যদি কয়লা চুরির সঙ্গে তৃণমূলের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ না থাকে, তবে ওই যুবকরা কেন অন্য কোথাও না গিয়ে সরাসরি দলীয় অফিসে ‘সমাধান’ চাইতে গেল? বিরোধীদের দাবি, কয়লা পাচার ও চুরির সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ যে তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের হাতেই রয়েছে, এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ। তাদের অভিযোগ, ভাগ-বাঁটোয়ারা বা ‘তোলা’ নিয়ে বনিবনা না হওয়াতেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, বিরোধীরা চক্রান্ত করে কিছু দুষ্কৃতীকে দিয়ে এই হামলা চালিয়েছে যাতে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করা যায়। কয়লা চুরির সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে, যারা কয়লা চুরি করতে চায়, তারা পুলিশের কাছে না গিয়ে কেন রাজনৈতিক দলের দ্বারস্থ হলো? এলাকায় চাপা উত্তেজনা বজায় রয়েছে