দেশজুড়ে আরও একবার বাড়ল গার্হস্থ্য এলপিজি সিলিন্ডারের দাম। সরকারি নির্দেশনায় প্রতিটি সিলিন্ডারের মূল্য ২৯ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ৭ই মার্চ এলপিজির দাম ৬০ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। সেই হিসেবে গত তিন মাসে রান্নার গ্যাসের দাম মোট ৮৯ টাকা বৃদ্ধি পেল। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির অগ্নিমূল্য এবং পশ্চিম এশিয়ার হরমুজ প্রণালীর অস্থির পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
পাবলিক ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রতিটি ১৪.২ কেজি গার্হস্থ্য সিলিন্ডার সরবরাহের পেছনে সরকারের প্রকৃত খরচ ১,৬০০ টাকারও বেশি। ফলে বর্তমান মূল্য সংশোধনের পরেও প্রতিটি সিলিন্ডারে প্রায় ৭০০ টাকার লোকসান বা ‘আন্ডার-রিকভারি’ বহন করতে হচ্ছে তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলিকে। হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে ভারতের এলপিজি সরবরাহ চেইন সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে। তবে সরকার পরিস্থিতির মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ৩২ টিএমটি থেকে বাড়িয়ে ৫২ টিএমটি করেছে, যা প্রায় ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি।
এই সংকটকালীন পরিস্থিতিতেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ বজায় রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও আলজেরিয়ার মতো দেশগুলি থেকে এলপিজি সংগ্রহ বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, অপব্যবহার রুখতে ওটিপি-ভিত্তিক ডেলিভারি যাচাইকরণ ৯০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। বর্তমানে অভ্যন্তরীণ এলপিজি খাতে মোট অনাদায়ী অর্থের পরিমাণ ৬০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বোঝা সামলাতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই বিপণন সংস্থাগুলিকে ৩০,০০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে। তবে এই ভর্তুকির বাইরেও উজ্জ্বলা প্রকল্পের গ্রাহকরা প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৩০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সুবিধা হিসেবে পাচ্ছেন।





