তালিকায় নাম নেই? ঘাবড়াবেন না! নথি দেখালেই মিলবে ভোটদানের অধিকার, আশ্বাস কমিশনের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘SIR’ প্রক্রিয়া যে কতটা কঠোর এবং বিতর্কিত, তার প্রমাণ মিলল সাম্প্রতিক প্রকাশিত তালিকায়। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে যে, এই তালিকায় কেবল সাধারণ মানুষই নন, খোদ প্রশাসনিক উচ্চপদস্থ কর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের নামও ‘বিচারাধীন’ বা ‘Under Adjudication’ রাখা হয়েছে।

তালিকায় উল্লেখযোগ্য কারা? তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ এবং অন্যান্য দলীয় নেতাদের দাবি অনুযায়ী:

  • বিধায়ক: উত্তর ২৪ পরগনার আমডাঙা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক রফিকুর রহমান-এর নামও এই ‘বিচারাধীন’ তালিকায় রয়েছে।

  • প্রশাসনিক কর্তা: এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরের বিডিও (BDO) এবং রাজ্যের বর্তমান মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী-র নামও এই তালিকায় ‘সন্দেহভাজন’ বা বিচারপ্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে বলে শাসকদলের দাবি।

  • পৌর প্রতিনিধি: নৈহাটির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের তিনবারের তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত সরকার এবং তাঁর মায়ের নাম তো সরাসরি ‘ডিলিটেড’ বা বাতিলের তালিকায় চলে গিয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের আশ্বাস: এই পরিস্থিতি নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বিচারাধীন’ মানেই নাম বাদ যাওয়া নয়। যাঁদের নথিতে সামান্য ভুল বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ পাওয়া গিয়েছে, তাঁদের নামই এই তালিকায় রাখা হয়েছে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে: ১. প্রত্যেকেই নিজস্ব নাগরিকত্ব এবং পরিচয় প্রমাণের নথি পেশ করার সুযোগ পাবেন। ২. জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা এই নথিগুলি খতিয়ে দেখছেন। ৩. তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলেই পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে তাঁদের নাম ‘অ্যাপ্রুভড’ করে দেওয়া হবে এবং তাঁরা ভোট দিতে পারবেন।

তৃণমূলের দাবি, এটি বিজেপির এক সুপরিকল্পিত ‘ভোটার ভ্যানিশ’ বা অদৃশ্য করার চক্রান্ত। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ স্বচ্ছ এবং আইনি প্রক্রিয়া। ডেইলিয়ান্টের পাঠকদের জন্য এই বিতর্কিত তালিকার প্রতিটি খুঁটিনাটি আপডেট নিয়ে আসছি আমরা।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy