বাংলাদেশের ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিএনপি-র নিরঙ্কুশ জয়ের পরেই বড়সড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার সকালে সরাসরি ফোনে কথা বললেন বিএনপির চেয়ারম্যান তথা বাংলাদেশের হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে। দুই দেশের মধ্যে শান্তি, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে ভারত যে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, এই ফোনালাপে সেই বার্তাই দিয়েছেন মোদি।
ফোনালাপে মোদির বার্তা: এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডলে এই কথোপকথনের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান:
“মিস্টার তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলে আমি আনন্দিত। বাংলাদেশের নির্বাচনে তাঁর দলের ঐতিহাসিক বিজয়ে তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণে তাঁর প্রচেষ্টায় ভারতের পূর্ণ সমর্থন থাকবে। ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনে আবদ্ধ দুই নিকট প্রতিবেশী হিসেবে আমি দুই দেশের মানুষের শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি।”
দিল্লির নয়া কূটনৈতিক সমীকরণ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির এই বিশাল জয়কে ভারত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে। গত কয়েক মাসের টানাপোড়েন কাটিয়ে দিল্লির লক্ষ্য এখন ঢাকার সাথে নতুন করে বিশ্বাসযোগ্য সম্পর্ক গড়ে তোলা। মোদির এই শুভেচ্ছা বার্তা তারই প্রথম ধাপ।
কী গুরুত্ব রয়েছে এই বার্তার?
-
গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান: মোদি তাঁর বার্তায় বাংলাদেশের জনগণের জনাদেশকে সম্মান জানিয়ে ‘গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ বাংলাদেশের পাশে থাকার কথা বলেছেন।
-
উন্নয়নমূলক অংশীদারিত্ব: সীমান্ত বাণিজ্য, কানেক্টিভিটি এবং তিস্তার মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে নতুন সরকারের সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে পিএমও।
-
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখতে বাংলাদেশ ও ভারত একে অপরের অপরিহার্য সঙ্গী—এই ধ্রুবকটিই ফের মনে করিয়ে দিয়েছেন মোদি।
বিএনপির প্রতিক্রিয়া: তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী মোদির এই অভিনন্দনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বিএনপি সূত্রে খবর, ভারতের সাথে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী নতুন সরকার।