বীরভূমের জেলা রাজনীতিতে ফের একবার অস্বস্তি বাড়াল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের ফাটল। এবার খোদ তারাপীঠ বিধানসভা কেন্দ্রে ‘সংখ্যালঘু প্রার্থী চাই’—এই দাবিতে পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্জা। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই পোস্টারগুলিতে নাম রয়েছে জেলা রাজনীতির দাপুটে নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহার অনুগামীদের। বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই দলের অন্দরের এই ক্ষোভ জনসমক্ষে চলে আসায় রীতিমতো ব্যাকফুটে জেলা নেতৃত্ব।
পোস্টারগুলোতে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে যে, আসন্ন নির্বাচনে তারাপীঠ কেন্দ্রে কোনো সংখ্যালঘু মুখকে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান কর্মীরা। স্থানীয় কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সংখ্যালঘুরা দলের বড় ভোটব্যাঙ্ক হলেও প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তারা বঞ্চিত। আর এই দাবি ঘিরেই জেলা তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়েছে গোষ্ঠীকোন্দলের গুঞ্জন। অনুব্রত মণ্ডলের জেলমুক্তির পর বীরভূমের রাজনীতিতে যখন স্থিতাবস্থা ফেরার আশা করা হচ্ছিল, ঠিক তখনই এই পোস্টার বিতর্ক নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে তড়িঘড়ি ময়দানে নেমেছেন জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র জামশেদ আলি খান। তিনি এই ঘটনাকে বিজেপির চক্রান্ত বলে দাবি করলেও, পোস্টারে দলেরই দাপুটে নেতাদের অনুগামীদের নাম থাকায় সেই যুক্তি ধোপে টিকছে না বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। জামশেদ আলি বলেন, “তৃণমূল একটি ধর্মনিরপেক্ষ দল। নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে যোগ্য মনে করবেন, তাকেই প্রার্থী করবেন। পোস্টার মেরে প্রার্থী বদল করা যায় না।” তবে ভোটের আগে এই পোস্টার বিতর্ক যে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, তা মেনে নিচ্ছেন অনেক ঘাসফুল কর্মীই।