ধূমপায়ীদের পকেটে এবার আরও জোরদার ছ্যাঁকা লাগতে চলেছে। বুধবার লোকসভায় শীতকালীন অধিবেশনের তৃতীয় দিনে ‘দ্য সেন্ট্রাল এক্সাইজ (সংশোধনী) বিল, ২০২৫’ পাশ হয়েছে। এই বিলটি কার্যকর হয়ে গেলেই তামাকজাত দ্রব্যের উপর বিদ্যমান জিএসটি (GST) এবং সেস (Cess)-এর পাশাপাশি অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (Excise Duty) আরোপের ক্ষমতা পাবে কেন্দ্র, যার ফলে সিগারেট থেকে পান মশলার দাম হতে চলেছে আকাশছোঁয়া।
📈 নতুন কর কাঠামো ও প্রভাব:
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন এই বিলটি পেশ করেছিলেন। এই বিলটি ‘সেন্ট্রাল এক্সাইজ অ্যাক্ট, ১৯৪৪’-এর পরিবর্তে কার্যকর হবে।
জিএসটি ও সেস: বর্তমানে তামাকজাত পণ্যের উপর ২৮ শতাংশ জিএসটি এবং নির্দিষ্ট হারে সেস রয়েছে।
বাড়তি আবগারি শুল্ক: বিলটি কার্যকর হলে এই করগুলির উপরেই কেন্দ্র আবগারি শুল্ক কয়েক গুণ বাড়াতে পারবে।
প্রস্তাবিত শুল্কের হার: সিগারেটের দৈর্ঘ অনুযায়ী প্রতি এক হাজার সিগারেটের উপর ৫,০০০ টাকা থেকে ১১,০০০ টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক চাপানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, সিগারেট বা সিগারের মতো ‘সিন গুডস’-এর উপর ৪০ শতাংশ জিএসটি চাপানোর পরেও এই আবগারি শুল্ক লাগু হবে। এর ফলে এক প্যাকেট সিগারেটের বর্তমান দামের প্রায় সমমূল্যে একটি সিগারেট কিনতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যান্য পণ্য: চিউইং টোবাকো, সিগার, হুক্কা, জর্দা, সুগন্ধী তামাকজাত পণ্য, পান মশলা এবং গুটখা—কোনও কিছুই এই শুল্ক বৃদ্ধি থেকে ছাড় পাবে না।
🗣️ স্বাস্থ্য ও অভ্যাসের লড়াই:
বিলটি নিয়ে বিতর্কের সময় সাংসদরা এর স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে জোর দেন। তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় এবং বিজেপি সাংসদ অরুণ গোভিল সহ অনেকেই ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের নেশা ছাড়ার জন্য তাঁদের ব্যক্তিগত লড়াইয়ের কথা তুলে ধরেন। সাংসদরা তামাক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।