বসন্তের শেষবেলায় রোদের তেজে যখন নাজেহাল অবস্থা বাংলার মানুষের, ঠিক তখনই এল বড় স্বস্তির খবর। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী শনি ও রবিবার (২১ ও ২২ মার্চ) রাজ্যের অধিকাংশ জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টির পাশাপাশি কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির দাহিকা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন কৃষি দপ্তরের আধিকারিকরা।
কেন এই আকস্মিক বদল? আবহাওয়াবিদদের মতে, ঝাড়খণ্ড সংলগ্ন এলাকায় একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বঙ্গে প্রবেশ করছে। এর জেরেই তৈরি হবে বজ্রগর্ভ মেঘ, যা থেকে সপ্তাহান্তে ঝড়-বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হবে।
কোন কোন জেলায় সতর্কতা? আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী:
-
দক্ষিণবঙ্গ: কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি এবং পূর্ব মেদিনীপুরে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তবে পশ্চিম মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
-
উত্তরবঙ্গ: উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলা—দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে আগে থেকেই হালকা বৃষ্টি চলছে। সপ্তাহান্তে সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে।
কতটা কমবে তাপমাত্রা? বর্তমানে বাঁকুড়া বা পানাগড়ের মতো জায়গায় তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বৃষ্টির পর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা এক ধাক্কায় ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামতে পারে। বইতে পারে ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া।
কৃষকদের জন্য সতর্কতা: চৈত্র মাসে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় ধান ও আমের মুকুলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। কৃষি বিশেষজ্ঞরা এই সময়ের মধ্যে পাকা ফসল ঘরে তোলার বা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।