বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে দীর্ঘ ২০ বছর পর আবারও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই মেগা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ বিশ্বের ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চীন, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ এবং ভুটান। কূটনৈতিক মহলের মতে, এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর নেতাদের একই মঞ্চে আনার এই প্রচেষ্টা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচন কমিশনের ফলাফল অনুযায়ী, বিএনপি ও তার সহযোগীরা ২০০-র বেশি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে। মঙ্গলবার সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। এরপর বিকেলে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের উন্মুক্ত চত্বরে নতুন মন্ত্রিসভাকে শপথ পাঠ করাবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ইতিমধ্যেই তারেক রহমানকে ফোনে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তবে দিল্লিতে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে মোদী সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের কোনো প্রতিনিধি দল এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে ঢাকা আসতে পারেন বলে জানা গেছে।