উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স বললেই পর্যটকদের চোখে ভেসে ওঠে ঘন সবুজ জঙ্গল, বন্যপ্রাণী আর নিস্তব্ধতা। আর এই ডুয়ার্সের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র হলো লাটাগুড়ি। গরুমারা জাতীয় উদ্যানের ঠিক পাশেই অবস্থিত এই ছোট্ট জনপদটি সারা বছর পর্যটকদের ভিড়ে ঠাসা থাকে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, এই জায়গার নাম ‘লাটাগুড়ি’ কেন? এর নামের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক প্রাচীন লোককথা ও প্রাকৃতিক ইতিহাস।
নামের রহস্য: স্থানীয় ইতিহাসবিদ এবং প্রবীণ বাসিন্দাদের মতে, ‘লাটাগুড়ি’ শব্দটি এসেছে দুটি স্থানীয় শব্দ থেকে। উত্তরবঙ্গের আঞ্চলিক ভাষায় ‘লাটা’ শব্দের অর্থ হলো ঘন ঝোপঝাড় বা জঙ্গল, আর ‘গুড়ি’ বা ‘গুঁড়ি’ বলতে বোঝায় গাছের গুঁড়ি বা কাণ্ড। একসময় এই অঞ্চলটি এতটাই ঘন জঙ্গলে আবৃত ছিল যে, এখানে বড় বড় গাছের গুঁড়ি এবং দুর্ভেদ্য লতাপাতার জঙ্গল ছাড়া আর কিছুই দেখা যেত না। সেই ‘লাটা’ (জঙ্গল) এবং ‘গুড়ি’ (গাছের কাণ্ড) মিলেই তৈরি হয়েছে লাটাগুড়ি।
আবার অনেকের মতে, আগে এই জঙ্গলে কাঠ কাটতে আসা মানুষরা বড় বড় গাছের গুঁড়ির ওপর বসে বিশ্রাম নিতেন। সেখান থেকেই লোকমুখে এই জায়গাটি ‘লাটাগুড়ি’ নামে পরিচিতি পায়। আজ এটি আধুনিক রিসর্ট এবং হোমস্টে-তে ভরে গেলেও, এর নামের পরতে পরতে আজও মিশে আছে ডুয়ার্সের আদিম অরণ্যের গন্ধ। পর্যটকরা এখানে মূলত জঙ্গল সাফারির টানে এলেও, এই নামকরণের ইতিহাস জানলে ডুয়ার্স ভ্রমণ আরও একটু বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে।