চলন্ত ট্রেন হঠাতই মাঝপথে দাঁড়িয়ে পড়ল। কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নয়, বরং ট্রেনের চালক বা লোকো পাইলট সোজা জানিয়ে দিলেন, তাঁর ডিউটির সময় শেষ হয়ে গিয়েছে, তাই তিনি আর এক পা-ও ট্রেন এগিয়ে নিয়ে যাবেন না। লোকো পাইলটের এই অদ্ভুত জেদ এবং মাঝপথে ট্রেন থামিয়ে দেওয়ার ঘটনায় চরম ভোগান্তির শিকার হলেন শয়ে শয়ে যাত্রী। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের একটি অত্যন্ত ব্যস্ত রেল শাখায়, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রেল মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি ঠিক কী? রেল সূত্রে খবর, এক্সপ্রেস ট্রেনটি যখন গন্তব্যের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই একটি স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে দেন লোকো পাইলট। যাত্রীরা ভেবেছিলেন সিগন্যালের সমস্যার কারণে ট্রেন দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিতে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ সবার। চালক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর কাজের সময়সীমা (Working Hours) অতিক্রান্ত হয়েছে। নিয়মানুযায়ী অতিরিক্ত সময় তিনি ইঞ্জিন চালাবেন না। এর পরেই তিনি ট্রেন থেকে নেমে নিজের ব্যাগ গুছিয়ে হাঁটা দেন।
যাত্রীদের দুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা অসহায় যাত্রীরা দীর্ঘক্ষণ ট্রেনের ভেতরে এবং স্টেশনে অপেক্ষা করতে থাকেন। ট্রেনের এসি এবং লাইট নিয়ে তৈরি হয় সমস্যা। অনেক যাত্রী ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং স্টেশন মাস্টারের ঘরের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। বিশেষ করে শিশু এবং বয়স্ক যাত্রীদের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, রেলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাবেই সাধারণ মানুষকে এমন পরিস্থিতির শিকার হতে হলো।
রেল কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি অন্য একজন লোকো পাইলটের ব্যবস্থা করার চেষ্টা শুরু করে রেল দফতর। প্রায় কয়েক ঘণ্টার টানাপড়েনের পর অন্য একজন চালক এসে পৌঁছালে ট্রেনটি পুনরায় গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। রেলের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, “ডিউটি শেষ হওয়ার দাবিতে ট্রেন থামানো নিয়মবিরুদ্ধ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনোভাবেই যাত্রীদের নিরাপত্তা এবং সময়কে হেয় করা উচিত নয়। একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।” এই ঘটনা রেলের পরিষেবা এবং কর্মীদের মানসিকতা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।