২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী তালিকা আসতেই সবথেকে বড় চমক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। খড়গপুর সদরের বর্তমান বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে তাঁর পুরনো কেন্দ্রে টিকিট দেয়নি দল। পরিবর্তে তাঁকে হাওড়া জেলার অত্যন্ত কঠিন আসন বলে পরিচিত শ্যামপুর থেকে প্রার্থী করা হয়েছে। টিকিট পাওয়ার খবর সামনে আসতেই হিরণকে ঘিরে শুভেচ্ছার বন্যা বয়ে গেলেও, অভিনেতা-বিধায়কের গলায় শোনা গেল এক অদ্ভুত আক্ষেপ ও নির্লিপ্তি।
হিরণ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “অনেকেই আমাকে ফোনে বা মেসেজে শুভেচ্ছাবার্তা পাঠিয়েছেন। কিন্তু এই মুহূর্তে আমি কোনো শুভেচ্ছা গ্রহণ করছি না।” কেন এই বিমর্ষ ভাব? রাজনৈতিক মহলের মতে, খড়গপুর থেকে তাঁকে সরিয়ে শ্যামপুরে পাঠানোয় কি দলের ওপর কোনো অভিমান কাজ করছে? কারণ গত কয়েকদিন ধরে খড়গপুর আসনে দিলীপ ঘোষের নাম আসায় হিরণকে নিয়ে নানা জল্পনা চলছিল। নিন্দুকরা ভেবেছিলেন তিনি হয়তো এবার কোণঠাসা হবেন, কিন্তু দল তাঁকে টিকিট দিলেও কেন্দ্র বদলে দেওয়ায় সমীকরণ বদলে গিয়েছে।
হিরণ আরও যোগ করেন, “লড়াইটা ব্যক্তিগত নয়, লড়াইটা মানুষের জন্য। কিন্তু শুভেচ্ছা নেওয়ার মতো পরিস্থিতি বা মানসিকতা এখন আমার নেই।” শ্যামপুর দীর্ঘদিনের তৃণমূলের গড়। সেখানে কাঞ্চন মল্লিকের মতো সেলেব্রিটি ইমেজের বিরুদ্ধে হিরণকে লড়তে হতে পারে। খড়গপুরের ‘ঘরের ছেলে’ হিসেবে পরিচিত হিরণের কাছে শ্যামপুরের এই নতুন চ্যালেঞ্জ কতটা সুখকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকলেও হিরণ এখন থেকেই বুথ স্তরে সংগঠনের ওপর জোর দিতে চাইছেন। তবে ‘শুভেচ্ছা’ না নেওয়ার জেদ যে নবান্ন অভিযানের মেজাজকেও হার মানাচ্ছে, তা বলাই বাহুল্য।