ঝাড়খণ্ডের রাজনৈতিক সমীকরণে শেষ মুহূর্তে বড়সড় নাটকীয় মোড়। রাজ্যসভার উপনির্বাচনে আসন ভাগাভাগি নিয়ে যে তীব্র বিবাদ তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত ‘জোট ধর্ম’ মেনে নমনীয় হলেন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন। ইন্ডিয়া জোটের অখণ্ডতা বজায় রাখতে জেএমএম (JMM) তাদের দ্বিতীয় প্রার্থীর পরিকল্পনা বাতিল করায়, আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে কংগ্রেস শিবির।
কেন এই পরিস্থিতি? ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল কংগ্রেস নেতা প্রণব ঝা-কে এককভাবে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত ঘিরে। জেএমএম-এর সাথে আলোচনা না করেই এই ঘোষণা হওয়ায় ক্ষুব্ধ ছিলেন হেমন্ত সোরেন ও তাঁর দলের নেতারা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, জেএমএম দ্বিতীয় আসনেও প্রার্থী দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, যা জোটে বড়সড় ফাটলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিল।
হেমন্তের ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ ও পাটিগণিত: রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হেমন্ত সোরেন অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামলেছেন। ঝাড়খণ্ড বিধানসভার বর্তমান যা সংখ্যাতত্ত্ব, তাতে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র হাতে ২৪ জন বিধায়ক রয়েছে। জেএমএম যদি দুটি আসনেই প্রার্থী দিত, তবে শাসক জোটের মধ্যে ভোট কাটাকাটির সুযোগ নিয়ে বিরোধী এনডিএ বড় সুবিধা পেতে পারত। সেই ‘ফাঁদ’ এড়াতেই কংগ্রেসকে একটি আসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যসভার লড়াইয়ে এখন ছবিটা কী?
জেএমএম-এর প্রার্থী হয়েছেন বর্ষীয়ান বিধায়ক বৈদ্যনাথ রাম।
কংগ্রেসের প্রার্থী প্রণব ঝা।
শাসক জোটে বিধায়ক সংখ্যা ৫৬, যেখানে জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৮ ভোট। জেএমএম-এর উদ্বৃত্ত ভোট এবং আরজেডি ও বামেদের সমর্থন পাওয়ায় এখন দুই জোট প্রার্থীরই রাজ্যসভায় যাওয়া অনেকটা নিশ্চিত।
জেএমএম মুখপাত্র সুপ্রিয় ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জোটের ঐক্যের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত ঝাড়খণ্ডে বড়সড় ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেল রাহুল গান্ধীর ‘ইন্ডিয়া’ জোট। তবে এই ছাড়ের বিনিময়ে আগামী দিনে কংগ্রেস ও জেএমএম-এর মধ্যে সম্পর্কের সমীকরণ কীভাবে বদলায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





